Monday 12 October, 2026

৭ মাসে মূল্যবৃদ্ধি ৩৫%: এলপিজি সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপন সমঝোতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 13:22, 11 October 2026

৭ মাসে মূল্যবৃদ্ধি ৩৫%: এলপিজি সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপন সমঝোতা!

৭ মাসে মূল্যবৃদ্ধি ৩৫%: এলপিজি সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপন সমঝোতা!

রান্নার জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে ব্যবসায়ীদের প্রভাবের কাছে সরকার কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের চাপেই বর্তমান সরকারের সাড়ে সাত মাসে এই অত্যাবশ্যকীয় জ্বালানির দাম ৩৫ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপরও ক্রেতাদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ, দেশের কোথাও এ দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামের সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভোক্তাদের খরচ।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারের একটি অংশ এলপিজি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ করে দিচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, সরকার যদি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমঝোতা না করে থাকে, তাহলে বাজারে এর প্রভাব ঠেকানো যাচ্ছে না কেন?

বাজার ঘুরে সাধারণ ভোক্তাদের এমন প্রতিক্রিয়া মিলেছে।

এলপিজির গ্রাহক দেশে এক কোটির বেশি। পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহে সংকট থাকায় অনেককে বাধ্য হয়েই এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই বাড়তি দামের চাপ সামলাতে হচ্ছে তাদেরই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, এটাই এর কারণ।

এলপিজি আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সক্ষমতা দেখাতে পারছে না, এমন অভিযোগও আছে। বেসরকারি আমদানিকারকরা যেখানে প্রায় ২০০ ডলারে এলপিজি আনছেন, সেখানে বিপিসির জন্য চাওয়া হচ্ছে ২৭০ ডলার।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত দামে দেশের কোথাও এলপিজি মিলছে না।

খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস তারা কিনতে পারছেন না, কারণ কোম্পানিগুলো ঠিকমতো সরবরাহ দিচ্ছে না। তাই বিকল্প পথে বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনে সামান্য লাভ রেখে তারা সেগুলো বাড়তি দামেই বিক্রি করছেন।এ

খুচরা বিক্রেতাদের এই অভিযোগ মানছেন না পাইকারি বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, খুচরা বিক্রেতাদের হাতে আগে থেকেই গ্যাস মজুদ থাকায় পিলার পয়েন্ট থেকে নতুন করে গ্যাস তুলতে তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের অভিযোগ, চাহিদামতো সিলিন্ডার দিচ্ছেন না অপারেটররা। এ নিয়ে অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে কেউ রাজি নন।

খুচরা বিক্রেতারা এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলছেন, বড়দের বিরুদ্ধে কথা বললে বর্তমানে যে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, সেটুকুও বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের অভিযোগ, আমদানি ও মজুদ থাকা সত্ত্বেও প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ সীমিত রাখা হচ্ছে। ফলে ডিস্ট্রিবিউটররা প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন না, আর তার প্রভাব গিয়ে পড়ছে খুচরা বাজারে।

অপারেটরদের দাবি, দেশে এলপিজি পর্যাপ্তই আছে। তাদের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার সুযোগে ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একাংশ সিলিন্ডার মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। সমস্যাটি খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতাদের কারণেও তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, কোনো অপারেটর বেশি দামে বিক্রি করছে—এমন প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কার্যকর নজরদারি চালাক।

 

News Editor : Shahrina Sharmin