এক বছরের বেতন না দিয়েই বন্ধ জেনারেল ফার্মার ডিপো, বিপাকে কর্মীরা
জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের বিতরণ বিভাগ ও ডিপো কর্মীদের এক বছরের বেতন বকেয়া। পরিশোধ হয়নি ১৪ মাসের যাতায়াত ও দৈনিক ভাতা। এর ওপর একের পর এক কর্মী ছাঁটাই ও ডিপো বন্ধ করার মৌখিক নির্দেশ জারি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কর্মচারীরা। এদিকে, ছাঁটাই হলেও প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটির টাকা পাওয়ারও নিশ্চয়তা নেই। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এভিস্তা ফার্মা ও জেনারেল ভিশনের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানিতে বেতন পরিশোধে অনিয়ম শুরু হয়। একপর্যায়ে বেতন দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাদের দাবি, এখনো বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বর্তমানে তাদের মোট ১২ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ১৪ মাসের টিএ/ডিএ পরিশোধ করা হয়নি। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অনেক কর্মচারী পরিবার পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বাড়ি ভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
কর্মচারীদের ভাষ্য, বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে তারা একাধিকবার আন্দোলন করেছেন। রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের প্রধান কার্যালয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যস্থতায় সমঝোতা বৈঠকও হয়। তবে ওই বৈঠকের পরও পাওনা পরিশোধের আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।
আন্দোলনের নেতাদের পাওনা পরিশোধ, অন্যরা বঞ্চিত
বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে কোম্পানি সমঝোতা করে। তাদের বকেয়া বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটির অর্থসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করে দেয়। কিন্তু আন্দোলনে নেতৃত্বের বাইরে থাকা অনেক কর্মচারীকে কোনো আর্থিক পাওনা পরিশোধ করেনি। তাদেরকে খালি হাতেই চাকরি থেকে বিদায় করা হয়েছে। কর্মীদের দাবি, একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে এমন ভিন্ন আচরণ তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এ নিয়ে শ্রম আদালতে বহু মামলা চলমান রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার সংখ্যা ৬০০টির বেশি।
তীব্র আর্থিক সংকট, ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পুনর্গঠনে বাধ্য হচ্ছে। অতিরিক্ত জনবল বহন করা সম্ভব না হওয়ায় ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জানায় জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিদুল হক সই করা ওই নোটিশে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০ ও ২৮/ক ধারা এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালার ৩২ বিধির উল্লেখ করা হয়। এতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ছাঁটাই কার্যকর করার কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে নোটিশে আইনানুগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মীদের সব পাওনা পরিশোধের অঙ্গীকার করা হয়। চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তির জন্য মানবসম্পদ, ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু কর্মীদের অভিযোগ, নোটিশে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। বরং মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে একেকজনকে একেকটি সম্ভাব্য পরিশোধের তারিখ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত তারিখ পার হলেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
চলতি বছরের নভেম্বর থেকে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে কর্মচারীদের জানায়। এ বিষয়ে এভিস্তা নামের
একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সমঝোতার কথাও কর্মীদের জানানো হয়েছিল।
কর্মচারীদের দাবি, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের একটি অংশ জেনারেল ভিশন এবং এভিস্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গত অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় কর্মীদের বকেয়া পাওনা কীভাবে পরিশোধ হবে, পুরোনো কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা কী থাকবে কিংবা তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়েই দেশের সব ডিপো বন্ধ এবং ডিপোর জন্য ভাড়া নেওয়া বাসাবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময়ে মৌখিকভাবে বলা হচ্ছে, তাদের চাকরি বহাল রয়েছে।
News Editor : Fokhrul Islam








