ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের অকাল প্রয়াণ: শেখ হাসিনার গভীর শোক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন।
মুক্তমঞ্চ পাঠকদের জন্য শেখ হাসিনার শোকবার্তাটি তুলে ধরা হলো-
আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমার স্নেহভাজন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির অতিপরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় এই সাবেক ছাত্রনেতার মৃত্যুতে আমি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
ছাত্ররাজনীতির বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে রোটন ২০০৬ সালের ৬ই এপ্রিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিল। শত নির্যাতন, হামলা-মামলা মোকাবেলা করে জামাত-বিএনপি জোট সরকারের মেয়াদে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
১/১১-এর তথাকথিত সরকারের সময়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে রোটন ছিল অঙ্গীকারাবদ্ধ।
দেশ ও মানুষের এই চরম প্রতিকূল সময়ে রোটনের মতো প্রতিশ্রুতিশীল ও পরিশ্রমী রাজনীতিকের আজ অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিগত অসাংবিধানিক সরকারের সময়ে হত্যাসহ একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হিসেবে ফেরারি জীবনে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোটন যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। যার পরিণতিতে আজ তাঁর মতো সম্ভাবনাময় নেতার অকালে চিরবিদায় ঘটলো।
মানুষ মরণশীল, কিন্তু এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি নাৎসি ইউনূসের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দ্রুত মৃত্যুবরণ, দেশবাসীর কাছে আমি সেই প্রশ্ন রাখলাম।
ছাত্র-জনতার অধিকার আদায়ের জন্য রোটনের নাতিদীর্ঘ জীবনে লড়াই-সংগ্রামের অবদানকে আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। পিতা-মাতা হারানো রোটনের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। মৃত্যুকালে স্ত্রী, মাত্র এক বছর বয়সী যমজ শিশুপুত্র, এক ভাইসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য বন্ধু-স্বজন, সহকর্মী-সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং শোকাহতদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।
আমি মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।








