তীব্র লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন: নেত্রকোনায় জোনাল অফিস ভাঙচুর
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় লোডশেডিংয়ের কারণে বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুৎ উপজেলার জোনাল অফিসে ভাঙচুর করে। আজ রবিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলাজুড়ে বিদ্যুতের সংকট চরম আকার ধারণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলতে থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন গ্রাহক জোনাল অফিসে গিয়ে ভাঙচুর চালান।
জানা যায়, উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৯৪ হাজার। পিকআওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কেন্দুয়ায় মোট ১২টি ফিডার সচল রয়েছে। এরমধ্যে কেন্দুয়া এলাকায় ৮টি এবং রামপুর এলাকায় ৪টি ফিডার রয়েছে। যদিও কাগজে-কলমে ফিডারের সংখ্যা ১৩টি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ নম্বর ফিডারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। কেন্দুয়ায় যে ৮ টি ফিডার রয়েছে, তারমধ্যে বর্তমানে ৬ টি ফিডারই বন্ধ রয়েছে। ময়মনসিংহ গ্রিডের মাধ্যমে নেত্রকোনা হয়ে কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে ছিল। রবিবার সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডানের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায়- সেই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে জোনাল অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’
কেন্দুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
News Editor : Mehedi Shaheen








