Tuesday 27 October, 2026

ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত লুলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 17:44, 26 October 2026

ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত লুলা

ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত লুলা

ব্রাজিলে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত লুলা। বিরোধী বলয়ের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস, বিভক্ত দেশ ঐক্যবদ্ধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রান-অফ নির্বাচনে ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

তবে নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলসোনারো। এদিকে বিভক্ত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং ডানপন্থীদের প্রাধান্য থাকা কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করাই লুলার নতুন মেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ব্রাজিলের সুপ্রিম ইলেকটোরাল কোর্টের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট।

ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বলসোনারো। তাঁর অভিযোগ, ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়টি ‘ব্যাখ্যাতীত’। তবে দুই প্রার্থীর নির্বাচনী শিবিরই ভোটকেন্দ্র খোলা রাখার সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন লুলা। ২০২৩ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরেন তিনি। এবারের জয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আগামী ৫ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে তাঁর নতুন মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা।

প্রথম দফার ভোটে গত ৪ অক্টোবর লুলাকে হারিয়ে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। ফলে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ফল ঘুরিয়ে লুলার জয় অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। নির্বাচনের আগে রাজপথে সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার তাঁর প্রচারণায় গতি ফিরিয়ে আনে।

লুলার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে দেশটির কংগ্রেস। ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক যুগে সবচেয়ে ডানপন্থী কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁকে কাজ করতে হবে। নির্বাচনে ফ্লাভিওর লিবারেল পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে লুলার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর নীতিগত দূরত্ব রয়েছে। ফ্লাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে লুলা নির্বাচনে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেছেন, ব্রাজিল কখনো অন্য কারও ‘পেছনের উঠান’ হয়ে থাকবে না।

লুলার জয়ে স্বস্তি প্রকাশ করতে পারেন পরিবেশবাদীরা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, ফ্লাভিও ক্ষমতায় এলে কৃষি ও খনি খাতের প্রভাবে পরিবেশ সুরক্ষা নীতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফ্লাভিওর বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর শাসনামলে আমাজন বনাঞ্চলে ব্যাপক বন উজাড় ও দাবানল নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল।

তবে নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে, ব্রাজিল এখনো গভীরভাবে বিভক্ত। ৪৮ শতাংশের বেশি ভোটার বলসোনারোকে সমর্থন করেছেন। ফলে নতুন মেয়াদে সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কঠিন রাজনৈতিক সমঝোতার মুখোমুখি হতে হবে লুলাকে।

 

News Editor : Fokhrul Islam