Friday 23 October, 2026

ভাঙচুর ও চুরি কোনো প্রতিবাদ নয়, অপরাধ: কঠোর অবস্থানে মেলোনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 15:06, 22 October 2026

ভাঙচুর ও চুরি কোনো প্রতিবাদ নয়, অপরাধ: কঠোর অবস্থানে মেলোনি

ভাঙচুর ও চুরি কোনো প্রতিবাদ নয়, অপরাধ: কঠোর অবস্থানে মেলোনি

ইতালিতে সহিংস বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে মিলানে, সপ্তাহান্তে ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিরতার পর নতুন নিরাপত্তা ডিক্রি অনুমোদন করেছে ইতালির মন্ত্রিসভা। এতে বিক্ষোভকারীদের কঠোর শাস্তি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সন্তানদের ভাঙচুরের জন্য অভিভাবকদের আর্থিকভাবে দায়ী করার বিধান রাখা হয়েছে।

অনুমোদিত ডিক্রিতে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার জন্য নতুন অপরাধের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মুখ ঢেকে রাখলে কিংবা তাঁর কর্মকাণ্ডে কেউ আহত হলে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, “ভাঙচুর ও চুরি কোনো প্রতিবাদ নয়; এগুলো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।” তাঁর সরকারের বক্তব্য, রাজনৈতিক দাবি আদায়ের নামে দোকানপাট ভাঙচুর, সম্পদ লুট কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।

নতুন ডিক্রির সবচেয়ে আলোচিত বিধানগুলোর একটি হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের দ্বারা সংঘটিত ভাঙচুর ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য অভিভাবকদের আর্থিক দায় নির্ধারণ।

 সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি—যেমন দোকানের কাচ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা গাড়িক্ষতিগ্রস্ত হলে মালিক আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগ নিতে পারবেন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সন্তানের যেকোনো অপরাধের জন্য অভিভাবক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ধরনের ফৌজদারি শাস্তি পাবেন। ঘোষিত বিধানটির মূল লক্ষ্য হলো অপ্রাপ্তবয়স্কদের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক দায় নির্ধারণ। ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আইনি আপত্তি জানানোর সুযোগও রয়েছে বলে ইতালির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

সরকারের যুক্তি, এই ব্যবস্থা অভিভাবকদের সন্তানদের আচরণ সম্পর্কে আরও সচেতন করবে এবং কিশোরদের সহিংসতা ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে পারিবারিক দায়িত্ববোধ বাড়াবে। নতুন ডিক্রিতে বিক্ষোভের সময় সংঘবদ্ধ সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো ব্যক্তি পাঁচ বা তার বেশি সদস্যের একটি দলের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পাথর, আতশবাজি, লাঠি বা অনুরূপ বিপজ্জনক বস্তু ব্যবহার করে জননিরাপত্তা বিপন্ন করলে নতুন অপরাধের আওতায় পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন করলে অথবা তাঁর কর্মকাণ্ডে কেউ আহত হলে শাস্তি বাড়তে পারে। সংঘবদ্ধভাবে সম্পত্তি ধ্বংস করার ক্ষেত্রেও কঠোরতর দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে নতুন অপরাধের বিধানটি সব ধরনের বিক্ষোভ বা সরকারবিরোধী বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে না। এর লক্ষ্য বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট সহিংস কর্মকাণ্ড, যা জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করে। ইতালির বিচারমন্ত্রীও বলেছেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও প্রতিবাদের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ; তবে তা আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের বিষয়ে পুলিশের প্রতিরোধমূলক ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো কিশোর অপরাধ সংঘটন না করলেও তার কাছ থেকে জননিরাপত্তার জন্য বিপদের আশঙ্কা রয়েছে—এমন প্রমাণ থাকলে পুলিশ তাকে সাময়িকভাবে আটক করতে পারবে। আগে এ ধরনের প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।

ডিক্রিতে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সীদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের তাৎপর্য বোঝার সক্ষমতা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে, যদি না বিপরীতটি প্রমাণিত হয়। পাশাপাশি কিশোরদের আটককেন্দ্রে ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কিশোর বিচারব্যবস্থায় বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এসব পরিবর্তনের ফলে সহিংসতায় জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করা ও বিচারের আওতায় আনা সহজ হতে পারে। তবে শিশু অধিকার, বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা এবং প্রতিরোধমূলক আটকের অপব্যবহার ঠেকানোর প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।

News Editor : Abdullah Al Noman