বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দেশজুড়ে ষষ্ঠ দিনের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কোথাও কোমরসমান পানি ভেঙে, কোথাও নৌকা ও ভ্যানে চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে তাদের। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।
সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হন। অভিভাবকরাও সন্তানদের সঙ্গে ছিলেন। তবে দেশের কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি ছিল একেবারেই দুর্বিষহ।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও ভাষাসৈনিক অজিত গুহ কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা নৌকা ও ভ্যানে করে এবং কোমরসমান পানি ভেঙে কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন। এসব দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে সোমবারের পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি জানান।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত পরিবার জলাবদ্ধতায় আটকা পড়েছে। সেখানকার কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রেও পানি জমে যায়, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে আরও কঠিন করে তোলে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং ওই বোর্ডের আওতাধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা আগেই ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে অন্য আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথারীতি চলছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক চাপ অনেক বেড়েছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও জানা গেছে। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা বিবেচনায় পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতির অভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বর্তমানে অন্য বোর্ডগুলোর পরীক্ষা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
দেশজুড়ে চলমান বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে লাখো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই সরকার ও শিক্ষা বোর্ডের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।








