বিদেশের কারাগারে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, সহায়তা নিয়ে অভিযোগ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন ১৫ হাজার ২১৩ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ভারতে বন্দির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জেদ্দাতেই আটক ছিলেন ৫ হাজার ৪৮০ বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ায় ২ হাজার ২১৭, ভারতে ১ হাজার ৪৪৪ ও থাইল্যান্ডে ১২৭ বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তবে বন্দিদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নানা অভিযোগ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন।
সৌদি আরবে নয় মাস কারাগারে কাটানো সিলেটের তিন ভাই আব্দুর রহমান, রিয়াজ উল্লাহ ও মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ মিশনে বারবার যোগাযোগ করেও তাঁরা কার্যকর সহায়তা পাননি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আগে তাঁদের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশে মানববন্ধন ও মিছিলও হয়েছিল।
সাজাপ্রাপ্তদের আইনি অবস্থা পর্যালোচনা ও ফলোআপের বিষয়ে মিশনের ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ।
বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো জানিয়েছে, তারা কারাগার পরিদর্শন, আইনি সহায়তা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দিদের সহযোগিতা করে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রায় প্রতি সপ্তাহে আটককেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়। দেশটিতে বন্দি বাংলাদেশিদের প্রায় ৭০ শতাংশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়াসংক্রান্ত মামলায় আটক।
থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা জহির ইমাম বলেন, দেশটির আইন অনুযায়ী সাজা শেষ হওয়ার আগে বন্দিদের ফেরত পাঠানো যায় না। তবে পরিবার অনুরোধ জানালে বা বন্দিরা আপিল করলে আইনজীবী নিয়োগের চেষ্টা করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে বন্দিদের মুক্তি, ক্ষমা ও সাজা কমানোর চেষ্টা করা হয়। মিশন থেকে সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা সরাসরি তাঁর দপ্তর বা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিদেশে বন্দি বাংলাদেশিদের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রত্যাবাসন সহজ করতে অনলাইন ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বন্দিদের পরিচয়, পাসপোর্ট-ভিসার তথ্য, অপরাধের ধরন ও সাজার মেয়াদ থাকবে। সাজা শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও ফৌজদারি অপরাধের মামলাগুলো আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বন্দিদের যথাযথ আইনি সহায়তা, প্রত্যাবাসন ও দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
News Editor : Abdullah Al Noman








