সিডনিবাসী-বাংলা ডটকমের ২০তম বর্ষপূর্তি: হার্সভিল সিভিক থিয়েটারে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সিডনিবাসী-বাংলা ডটকম পত্রিকার ২০তম বর্ষপূর্তি। এ উপলক্ষে গত সেপ্টেম্বরে হার্সভিল সিভিক থিয়েটারে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিডনিবাসী-বাংলা ডটকমের সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল মতিন ও খ্যাতনামা নজরুলসংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ ছাড়া পত্রিকাটিতে নিয়মিত লিখেছেন এমন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট এবং আয়োজনের সহযোগীদেরও মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় প্রকৌশলী আবদুল মতিন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
ভিন্নধর্মী পরিকল্পনায় সাজানো এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন নজরুলসংগীত শিল্পী অমিয়া মতিন ও শিল্পী ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁদের সুমধুর কণ্ঠ ও সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

শিল্পী অমিয়া মতিন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ ইয়াকুব আলী খান, সুমন চৌধুরী, ফাতেমা-তুজ-জোহরা এবং ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছে সংগীতের তালিম গ্রহণ করেন। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ও নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সংগীতের চর্চা ও পরিবেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ডঃ আবদুল্লাহ আল মামুন এক বহুমাত্রিক আলোকবর্তিকা, একের ভেতর বহু সত্তার সজীব সহাবস্থান।
তিনি কেবল একজন প্রথাগত প্রকৌশলী নন; একাধারে লেখক, গীতিকার, সুরকার, সংগীতশিল্পী ও সাংবাদিক। তাঁর প্রতিটি পরিচয় যেন জীবনের ক্যানভাসে আঁকা আলাদা একেকটি রঙ, আর সবগুলো মিলেই গড়ে উঠেছে তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্ব। আশির দশকের সেই সোনালী দিনগুলো আর কালজয়ী গানগুলোর আবেদন কখনো ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। অমিয়া মতিন এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন-এর দ্বৈত কণ্ঠে পরিবেশিত সেই বিখ্যাত গানগুলো শ্রোতাদের মনে এক চরম নস্টালজিয়া এবং পুরোনো দিনের মধুর স্মৃতির সৃষ্টি করে। তাদের অসাধারণ রসায়ন এবং সুমধুর কণ্ঠের মেলবন্ধন শ্রোতাদের নিয়ে যায় পেছনের দিনগুলোতে,যা শৈশব, কৈশোর বা তরুণ বয়সের কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। নৃত্যাঞ্জলী ডান্স একাডেমির অপূর্ব সুন্দর ক্লাসিক্যাল পরিবেশনাটি সত্যিই প্রশংসনীয়। শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রতিটি মুদ্রা, ছন্দ এবং ভাবভঙ্গি যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা এক কথায় অসাধারণ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন খ্যাতনামা এবং একুশে পদক প্রাপ্ত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি নজরুল সংগীত এবং আধুনিক গান এর পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন, কবিতার বই, ছড়ার বই, উপন্যাস, গল্পের সংকলন, কলাম এবং নজরুলের গান নিয়ে একটি গানের বইও প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাঁকে সিডনিবাসী বাংলা (Sydneybashi-Bangla.Com) পত্রিকার পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। এরপর কানেক্ট কমিউনিটি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে অমিয়া মতিন এবং সিডনিবাসী বাংলা পত্রিকার (Sydneybashi-Bangla.Com) পক্ষ থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনকে ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা বিভিন্ন পর্যায়ের নজরুল সঙ্গীত ( ঠুমরি, খেয়াল এবং গজল অঙ্গের গান) এবং রাগ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তাঁর এই এই ক্ষুরধার সৃজনশীলতা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।এছাড়াও তার প্রিয় ছাত্রী অমিয়া মতিন তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে পুরনো দিনের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গান ‘তারে বলবো আমি মনের কথা’ পরিবেশন করেন।
তাঁদের এই চমৎকার যুগলবন্দী দর্শক শ্রোতারা প্রাণভরে উপভোগ করেছেন এবং হলভর্তি দর্শক জোরালো করতালির মাধ্যমে তাঁদের এই পরিবেশনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি একটানা দুই ঘণ্টা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সংগীত ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলার বিশেষ সন্ধ্যায় যন্ত্রসংগীতে চমৎকার সহযোগিতা করেছেন গিটারিস্ট সোহেল খান, তবলা বাদক অভিজিৎ দান, অক্টোপ্যাডে শাহরিয়ার এবং কিবোর্ডে সাইফ সোহান। ন্যান্সি লিনা ব্যারেল এবং ডক্টর মাফরুহা আলমের চমৎকার এবং প্রাণবন্ত উপস্থাপনা পুরো অনুষ্ঠানটিকে আরও মুখরিত করে তোলে।
এই পর্যায়ে অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ অ্যাল্যামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া-র পক্ষ থেকে প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা-কে সম্মাননা জানানো হয় এবং 'বগুড়া সমিতি অস্ট্রেলিয়া' আবদুল মতিন,অমিয়া মতিন, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। অ্যালেন জোসেফের চমৎকার ভিডিওগ্রাফি এবং নিখুঁত এডিটিং সত্যিই প্রশংসনীয় বিশেষ মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দী করেছেন রায়হান আহমেদ, দিবস দেওয়ান এবং অশোক অধিকারী।
দীর্ঘদিন পর মূলধারার এই অনুষ্ঠানটি দর্শকহৃদয়ে এক অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে এবং বিনোদনে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা। পরিশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।
News Editor : Fokhrul Islam








