৩ মাসে এলপিজির দাম বাড়ল ৫৩২ টাকা, বাড়তি খরচে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ
বিগত মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম একলাফে বেড়েছে ৫৩২ টাকা। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক চতুর্থ দফায় এই দাম বাড়ানোর এ ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাধারণ গ্রাহক ও ভোক্তারা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, এলপিজির দাম বাড়ায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা নিত্যদিনের খরচে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে। শীতের আগে রান্নার গ্যাসের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি জনসাধারণের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বিইআরসি-এর দাম বৃদ্ধির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে এলপিজি গ্যাসের দাম ১,৮৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ২,০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা সিলিন্ডার প্রতি বেড়েছে ২২৩ টাকা। এর পূর্বে ১,৫৮৫ টাকার এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে অক্টোবরে দাম নির্ধারণ করা হয় ১,৮৩৭ টাকা। অন্যদিকে জুলাই মাসে এলপিজির দাম ১,৫২৮ টাকা থাকলেও আগস্টের শুরুতে ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১,৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করে সরকার।
বিইআরসি-এর সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি সিপি এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির অজুহাতে দফায় দফায় এলপিজির মূল্য সংশোধন করা হচ্ছে। একের পর এক রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে খুচরা বাজারে একটি ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত টাকা খসে যাচ্ছে। একের পর এক এই দাম বৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মাসিক বাজেটে তীব্র ওলটপালট সৃষ্টি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরে ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে এলপিজির দাম। প্রতি মাসেই বিইআরসি নতুন মূল্য নির্ধারণ করলেও তা বরাবরের মতোই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চতুর্থ দফার এই মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিগত তিন মাসের ব্যবধানে ৫৩২ টাকার এই বড় উল্লম্ফন মূলত পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে।
এদিকে দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়ায় মাঠপর্যায়ের সাধারণ মানুষ ও খুচরা ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নতুন করে এলপিজি গ্যাসের এই বাড়তি খরচ তাদের জীবনযাত্রাকে ওষ্ঠাগত করে তুলেছে। পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, আয়ের তুলনায় ব্যয় এভাবে বাড়তে থাকলে মধ্যবিত্তের টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট ও বাজার মনিটরিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজি গ্যাসের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে তা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা কাটাতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারেও যেন দ্রুত দাম কমানো হয়, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বিইআরসি নির্ধারিত সরকারি রেট যাতে খুচরা বাজারে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়, সেজন্য নিয়মিত ও নিবিড় বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
News Editor : Sheikh Daiyan








