আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর সংঘটিত যৌন সহিংসতা তীব্র নিন্দা AFERMB-র
বাংলাদেশে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর সংঘটিত যৌন সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান, তীব্র নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে AFERMB
চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরীকে নির্মমভাবে গণধর্ষণের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ (AFERMB) তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ঐদিন রাতে প্রাইভেট টিউশনি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়, পরে গভীর রাতে তাকে একটি নির্জন মাঠে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের জনগণ ভালো করেই জানে, এই পাশবিক নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারীদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিপীড়নের অস্ত্র হিসেবে বরাবরই ধর্ষণকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই ধর্ষণের প্রতিবাদ করারকারণে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর দখলদারদের সন্ত্রাসী চক্র, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ দফায় দফায় আক্রমণ, হুমকি ও সংঘবদ্ধ সহিংসতা চালিয়েছে। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার, গুইমারা উপজেলার আথুই মারমা (২১), আঘ্রাউ মারমা (২২) ও তেইচিং মারমা (২০) এই তিন আদিবাসী যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে এই হত্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী উভয়েরই সম্পৃক্ততা রয়েছে। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ঊর্ধ্বে নয়; জড়িত সকল পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এসব মধ্যযুগীয় দমনপীড়নের অবসান ঘটাতে হবে।
এদিকে, ২৯ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে জুগলি ইউনিয়নে নবম শ্রেণির এক গারো আদিবাসী মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়। এই ঘটনায় এই সত্যটা আবারও সবার কাছে দৃশ্যমান হলো যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো সমতলেও আদিবাসী নারী ও কিশোরীরা ব্যাপক যৌন নির্যাতন ও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার শিকার হচ্ছেন।
AFERMB গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছে যে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ বারবার ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বেঁচে থাকা নির্যাতিতারা এবং মানবাধিকার কর্মীরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেইসাথে এফআইআর রিপোর্ট দুর্বল করে বা অন্যের নির্দেশমত তৈরি, স্বাস্থ্যপরীক্ষার আবেদনে অস্বীকৃতি বা মিথ্যা রিপোর্ট' প্রদান, আলামতে জালিয়াতি, সংবাদমাধ্যমে সেন্সরশিপ এবং বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হচ্ছেন। এসব প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা প্রকৃতপক্ষে অপরাধীদেরকে শাস্তি এড়াতে সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে তা ভুক্তভোগীদের হয়রানি ওভোগান্তিকে আরও তীব্র করে তুলছে।
AFERMB জরুরি ভিত্তিতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেঃ
১। খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরী ও হালুয়াঘাটে গারো স্কুলছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি আওতায় বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান।
২। গুইমারায় তিন আদিবাসী যুবক হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক তদন্তের ব্যবস্থা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের দায় স্বীকার করানো।
৩। সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বন্ধ করতে এবং বেসামরিকপ্রশাসন কার্যকর করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
৪। বাংলাদেশের সকল জাতিগত গোষ্ঠীকে পূর্ণ সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করার নিশ্চয়তা দেওয়া।
৫। আটক আদিবাসী নাগরিকদের মুক্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধ করা।
বাংলাদেশে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর যে নিপীড়ন চলছে, তা মানবাধিকারকে গুরুতর লঙ্ঘন, সেইসাথে বহুমুখী গণতন্ত্রের মূলনীতিকেও চরমভাবে অসম্মানিত করছে। সকল জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুর জন্য বিচার, নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে AFERMB বাংলাদেশের সরকার, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের কাছে অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
News Editor : Muhammad Noman







