পে স্কেলে বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা
নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ অর্থের জোগান দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণের উপায় খুঁজতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ নির্দেশ দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে এবার আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ।
কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। স্বাধীনতার পর দেশে রাজস্ব আদায়ে ২৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির রেকর্ড নেই।
আরো পড়ুন
এক প্রতিবেদনে টিবিএস জানায়, যেকোনো মূল্যে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন উপদেষ্টা। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ফলে যে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে, এনবিআরকে তার জোগান দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।
সরকার সোমবার নতুন পে স্কেল ঘোষণা করেছে। এতে ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনীতির মন্থর গতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, শিল্প উৎপাদনে বাধা এবং আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। বিশেষ করে আমদানি শুল্কনির্ভর রাজস্বে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সিপিডির ডিস্টিংগুইশড ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতা ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত কঠিন।








