অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন
গত রবিবার (২৯শে মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সাথে মেলবোর্ন বাংলা স্কুল ও মেলবোর্ন বাংলাদেশি কম্যূনিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপন করা হয়।
শুরুতেই অতিথিবৃন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ও অভিভাবকদের নিয়ে অমর একুশে উপলক্ষে আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন স্কুলের শিক্ষক জোবাইদা আলী, মিতা পারভীন এবং ড. নাহার। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মাহবুবুর মোল্লা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করে স্কুলের শিক্ষার্থী আলীনা হক। এরপর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের মাগফিরাতের জন্যে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের অধ্যক্ষ ও মেলবোর্ন বাংলাদেশি কম্যূনিটি ফাউন্ডেসনের সভাপতি জনাব ড. মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক। তিনি স্কুলের শিক্ষার্থী ও অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সামনে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, ভাষা রক্ষায় এর প্রয়োজনীয়তা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে এর ভূমিকা, ইত্যাদির উপর আলোকপাত করেন ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্ত আরোপ করেন। উনি সমাজ ও দেশের স্বার্থে করা মেলবোর্ন বাংলাদেশি কম্যূনিটি ফাউন্ডেসনের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড সবার সামনে তুলে ধরেন ও মেলবোর্নে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ও মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এছাড়া তিনি মেলবোর্নের মেরি-বেক কাউন্সিলে একটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা মনুমেন্ট তৈরী করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের জন্যে এরপর অমর একুশের উপর এক প্রামান্য চিত্র দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভিক্টোরিয়া রাজ্যের ব্রডমেডোজ অঞ্চলের স্টেট এমপি ক্যাথলীন ম্যাথিউজ-ওয়ার্ড। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মেরি-ব্যাক সিটি কাউন্সিলের সন্মানিত কাউন্সিলর স্যু বোল্টন। তারা ব্যাক্তি ও সামাজিক জীবনে মাতৃভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলা ভাষার ইতিহাস জানতে পেরে বাংলাভাষীদের ভাষার জন্যে জীবন ত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করেন। তারা তাদের ছোটবেলায় ইংরেজীর পাশাপাশি আরবী, ইটালিয়ান ইত্যাদি ভাষা শিক্ষার কথা স্মরন করেন। স্থানীয় পাঠাগারে বাংলা বই সরবরাহ ছাড়াও ভবিষ্যতে বাংলা ভাষা শিক্ষা ও বাংলাদেশী কম্যূনিটির সবধরনের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। আরো বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেস্টা ড. আলম মাহবুব, এবং উপদেস্টা ড. মাহবুবুর মোল্লা। তারা বলেন শিশুরা যাতে জানতে পারে যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে দেশের মানুষ ভাষা রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছে| ভাষার জন্য আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর জন্য জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়| আমাদের এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রবাসে থেকেও জানতে পারে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা ও প্রচেষ্টা।

এরপর শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। পুরস্কার বিতরন করেন স্টেট এমপি ক্যাথলীন ম্যাথিউজ-ওয়ার্ড এবং কাউন্সিলর স্যু বোল্টন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ছোটদের মধ্যে প্রথম হয় সুহাইলা, দ্বিতীয় হয় তাহির, ও তৃতীয় হয় জাইন। মধ্যম বয়সীদের মধ্যে প্রথম হয় জাফিরা, দ্বিতীয় হয় আলীনা ও তৃতীয় হয় নাদিরাহ।
বড়দের মধ্যে প্রথম হয় নাফিসা, দ্বিতীয় হয় সায়রা ও তৃতীয় হয় সুমাইতা। তাছাড়া চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন পুরস্কার দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সম্মিলিত জাতীয় সঙ্গীত ও অমর একুশের গান গেয়ে শোনায় মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথি বৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি করে ও গান গেয়ে শোনায় মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক বৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষে সবাইকে অনুষ্ঠানে আসার জন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন জনাব ড. মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক। সার্বিক তত্তাবধানে ছিলেন ড. মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক, ড. মাহবুবুল আলম, মাসুম কবির, মিতা পারভীন, জোবাইদা আলী, ড. মোসাম্মাৎ নাহার সহ আরও অনেকে। সহযোগিতায় ছিল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সুমাইয়া হক, মানহা মাহবুব, সাদ হকসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে সবাই একসাথে দুপুরের আহার উপভোগ করেন।







