লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা
খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে এসব জেলায় ১১৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। এদিন দুপুরে অফ-পিক আওয়ারেও লোডশেডিং ছিল ১০১ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা।
খুলনার গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার আমার এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। আগে এক ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকতো না। বুধবার একটানা দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। হিসাবে ১৩-১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে আমাদের এলাকায়।’
বয়রা এলাকার বাসিন্দা আম্বিয়া খাতুন বলেন, ‘এমনিতেই গ্যাসের সমস্যা প্রকট। বিদ্যুৎ দিয়ে সেই সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও অসহনীয় করে তুলেছে।’
একই কথা বলেছেন টুটপাড়া এলাকার লতিকা রানি। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জরুরি কাজের সময়ও বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন বিরক্ত হওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না।
ওজোপাডিকোর কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যার পর প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৯৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ৫৭৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১১৬ মেগাওয়াট। এ সময় খুলনা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫২৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ করা হয় ৪৪৭ মেগাওয়াট। এ জোনে ঘাটতি ছিল ৮১ মেগাওয়াট। বরিশাল জোনে ১৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩১ মেগাওয়াট। এ জোনে ঘাটতি ছিল ৩৫ মেগাওয়াট।
সন্ধ্যায় জেলাভিত্তিক হিসাবে খুলনায় ২৯, মাগুরায় ৪, নড়াইলে ৩, ঝিনাইদহে ১১, চুয়াডাঙ্গায় ২, মেহেরপুরে ১, ফরিদপুরে ১২, রাজবাড়ীতে ১৩, মাদারীপুরে ৪, গোপালগঞ্জে ১, শরীয়তপুরে ১, বরিশালে ২২, পিরোজপুরে ২, ঝালকাঠিতে ২, পটুয়াখালীতে ৩, বরগুনায় ২ ও ভোলায় ৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।
এদিকে, বুধবার দুপুর ১টার পর ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৬১ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ৫৬০ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং ছিল ১০১ মেগাওয়াট। খুলনা জোনে ৪৮১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৪২২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৫৯ মেগাওয়াট। বরিশাল জোনে ১৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৪২ মেগাওয়াট।
দুপুরে জেলাভিত্তিক হিসাবে খুলনায় ১৭, মাগুরায় ৬, নড়াইলে ১, ঝিনাইদহে ৭, ভেড়ামারায় ১, কুষ্টিয়ায় ৭, রাজবাড়ীতে ১০, মাদারীপুরে ৫, গোপালগঞ্জে ৩, শরীয়তপুরে ২, বরিশালে ২৫, পিরোজপুরে ৩, ঝালকাঠিতে ৩, পটুয়াখালীতে ৫, বরগুনায় ৩ ও ভোলায় ৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।
এর আগের দিন ১৩ অক্টোবর দুপুর ১টায় ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৪১ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ৭০৫ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল ৩৬ মেগাওয়াট। খুলনা জোনে ৫৬৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৫৩১ মেগাওয়াট। এ জোনে ঘাটতি ছিল ৩৬ মেগাওয়াট। বরিশাল জোনে ১৭৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
১৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭২১ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ৬৪২ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল ৭৯ মেগাওয়াট। খুলনা জোনে ৫৫১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৫০৪ মেগাওয়াট। এ জোনে ঘাটতি ছিল ৪৭ মেগাওয়াট। বরিশাল জোনে ১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩৮ মেগাওয়াট। এ জোনে লোডশেডিং ছিল ৩২ মেগাওয়াট।
News Editor : Abdullah Al Noman








