সুদ বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে: জামায়াত এমপি
দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ ও জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এজন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করা, জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং তা আলেমদের নেতৃত্বে পরিচালনা করারও দাবি জানান তিনি।
আজ রবিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সুদের বিধান ও কুফল প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সুদ খাওয়াকে মহান আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) সঙ্গে যুদ্ধ করার শামিল বলা হয়েছে। তাই যুদ্ধ করতে না চাইলে অবশ্যই সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে।
অনেক দেশে সুদমুক্ত অর্থনীতি আছে, ব্যাংক আছে। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটা প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক ব্যাংক ইসলামিক কাউন্টার খুলেছিল, এতে প্রমাণিত হয় সুদমুক্ত ব্যাংক চলে। জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘সুদ চললে আল্লাহর আজাব হালাল হয়ে যায়।
সুদের টাকায় শরীরের যে অংশ গঠিত হবে, তা জাহান্নামে পুড়বে। জাকাত ঠিকমতো আদায় করা গেলে ২ লাখ কোটি টাকা বের হতে পারে। আমাদের ঘাটতি বাজেট পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু জাকাত যারা বোঝে না, চুরি করে তাদের হাতে জাকাত দিলে হবে না। এজন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করে সুদভিত্তিক অর্থনীতির কবর রচনা করতে হবে।
’
তিনি বলেন, ‘কালোটাকা সাদা করা যাবে না। এটা চালু থাকলে অন্যায় বলে কিছু থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘মদ ও বিড়ি যাতে মানুষ না খায়, সেজন্যই দাম বাড়িয়েছেন, এর জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেন কমাতে বললেন জানি না।’
মদিনার ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মদিনার ইসলামে সুদ ছিল না, জাকাত ছিল। তাই সুদ বন্ধ করে জাকাত চালু করতে হবে। ফসলের ওশর আছে। অন্যান্য দ্রব্যের জাকাত, কাফফারার সঙ্গেও অর্থনীতির সম্পর্ক আছে। কওমি মাদরাসার প্রতি বাজেট থাকা দরকার বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক মুজিবুর বলেন, এই সংসদে আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা সরাসরি নেতাদের স্মরণ করেছেন, দোয়া করেননি, তারা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। আল্লাহর এসব নির্দেশ মানলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ হবে।








