তিরাশিতেও তরুণ সিডনির গামাভাই
সিডনি শহরে এবারই প্রথম আসা নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার আসা হয়েছে। এসেছি রক্তের টানে কিংবা নতুন বন্ধন তৈরি তাগিদে। যতবারই এসেছি তাতে একটা আবেগ আর আনন্দ কাজ করেছে। এর বাইরে রয়েছে পাহাড় সমুদ্রে ঘেরা দারুণ প্রকৃতি। বুলু মাউন্টের নীল আকাশ, স্থানু হয়ে থাকা পাথুরে থ্রি সিস্টার্স এবং কোটি কোটি বৃক্ষে শোভিত উঁচু নীচু পাহাড়, পাহাড়ের ক্ষীণ ঝর্ণাধারার মৃদু শব্দ বেশ ভালো লেগেছে।
উলংগনের পাথুরে ছিদ্র ফুটে উচ্ছসিত সমুদ্রের নীল জলের উদ্দাম ঝাপটার ‘আনন্দ আর অপেক্ষা’ বার বার মনে করার মতন। সিডনি একুরিয়ামে ডলফিনের হেলেদুলে চলা, উবান বোটানিক গার্ডেনে ময়ূরের পেখম তোলা নৃত্য কিংবা ক্যাঙারুর ছুটে চলা মনে দাগ কেটেছে। ইংরেজি বছরের অবসানে রাতের আধাঁর ফুরে ঠিক ১২টা এক সেকেন্ডে শুরু হওয়া আলোর বন্যায় ডুবে যাওয়া অপেরা হাউস আর হারবার ব্রিজ, কিংবা উচ্ছসিত আলোর বিকিরণের সাথে জনমণ্ডলীর সমবেত আনন্দ চিৎকার, বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। স্মৃতির ভাণ্ডারে এগুলো আমার পরম পাওয়া। তাড়িত স্মৃতির আলোয় বারবার শিহরিত হই ,আনন্দিত হই।
সেই সিডনি শহরে এবার আসাটা একদমই ভিন্ন। এতো এতো স্মৃতি সেগুলো মনে দাগ কাটে না। সব স্মৃতিকে মারিয়ে ভেসে উঠে বঙ্গবন্ধুর সুউচ্চ সোনালী স্থানু ভাস্কর্য়টির স্কন্ধে প্রোথিত হাতুরির আঘাত, বত্রিশের ভেঙ্গে ফেলা ভবন, কিংবা আমার নিজরেই বাসা এবং জাদুঘরে দেয়া আঘাতের ক্ষতগুলো।
বারবার ভেসে ওঠে একমাত্র সন্তানের নবধূর বেদনাবিধূর মুখাবয়ব। গত বছর ৮ ফেবুয়ারি বধূবরণের আয়োজন ছিল। নিমন্ত্রিত অতিথি সৎকারের সকল আয়োজন সম্পন্ন, কিন্তু তার কোনোটিই হয়নি। বাতিল করতে হয়েছে সবকিছুই। একমাত্র সন্তানের নববধূকে বরণ করা হয়নি। বাতিল করতে হয়েছে সকল আয়োজন। পুত্রবধূকে ঢাকা থেকেই ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। শশুরবাড়ি না দেখেই তাঁকে ফিরে আসতে হয়েছে এই সিডনি শহরে। আমার একমাত্র সন্তানের অব্যক্ত মন:কষ্ট যা আমাদের চোখের জলের কারণও বটে।
ফলে সিডনি শহরের মনলোভা সৌন্দর্য় এবারে আমায় টানছে না। একটা একান্ত কষ্ট কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। একজন নবপরিণিতার চিরায়ত স্বপ্ন থাকে, বৌ বেশে শশুরালয়ে যাওয়ার,পরিচিত হওয়ার। সেসব তাঁর হয়নি। ওদের নতুন ও কোমল জীবনে গড়ে ওঠা স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। ওদের কতটুকু কষ্ট জানি না, তবে আমি ভীষণ, ভীষণভাবে ব্যথিত। যার কারণে এ শহর আমায় টানে না।
কানাডার মন্ট্রিয়েল থেকে টানা বত্রিশ ঘণ্টা জার্নি শেষে সিডনি শহরে এসেছি ২১ অক্টোবর। পুত্রবধূ মুনিবা বারী একগুচ্ছ ফুল নিয়ে এয়ারপোর্টে এসেছে আমায় নিতে। পুত্র ও পুত্রবধূকে কাছে পেয়েও আনন্দিত হতে পারিনি। একটা ব্যাথা বুকজুড়ে বয়ে চলেছে এখনো।
প্রতিবারই এ শহরে এলে অনেকের সাথে দেখা হয়। আনন্দ উপভোগ করি। কেউ কেউ সম্মানিত করতে নানা আয়োজনও করেন। এবারে সেসব থেকে গুটিয়ে নিয়েছি। তেমন একটা কোথাও যাই না। বাসাতেই কম্পিউটারে সময় কাটাই। দু’চার লাইন লিখি। এখানে আসার আগে বিশেষত আমেরিকা ও কানাডায় থাকতে সামাজিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক মাধ্যম একদম এড়িয়ে চলেছি।
গত বছরের ১৮ জুন আমার হার্নিয়ার শৈল্যকরণ হয়। কুড়িগ্রাম হাসপাতাল থেকে ২৯ জুন, ২০২৪ ছাড়া পেয়েই ঢাকায় আসি, সেখান থেকে জুলাই ৪ তারিখ নিউইয়র্ক যাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি ও রংপুর ভিাগের প্রবাসীদের আমন্ত্রনে। প্রায় একমাস থেকে ২৭ জুলাই সেখান থেকে দেশে ফিরে আসি। ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে সোজা কুড়্রিগ্রাম চলে যাই। তার কয়েক দিনের মাথায় ৪ ও ৫ আগস্ট ঘটনা। বাড়ি ও জাদুঘরে পরিকল্পিত আক্রমণ।
একটা ভয়াভয় অবস্থা দেশের ওপর চেপে বসে। যেখানে অপরাধী নিরাপরাধীর পার্থক্য নেই। কারো পছন্দ না হলেই হলো, অপরাধে তার অংশগ্রহণ থাকুক বা না থাকুক, তিনি দোষী। এর বাইরে রয়েছে মামলা বাণিজ্য, এক মামলায় দেশের সব জেলার মানুষের নাম দেয়ার নতুন ধারা। যাহোক সিডনি শহরে এসে নীরব হয়ে রয়েছি। দেশেও কাউকে ফোন দেইনা। যাকে ফোন দেবো, যদি তার অসুবিধা হয়। ছেলের ছাত্রত্বের গন্ধ এখনো যায়নি, দিনরাত্র কষ্ট করে। আমি আসবো বলে আর্থিক সীমাবদ্ধার পরও একরুমের বাসা ছেড়ে দুরুমের বাসা ভাড়া নিয়েছে। একমাত্র সন্তানের কাছে থাকি। তারপরও মনের মধ্যে হাহাকার। মনটা পড়ে থাকে দেশে, উত্তরবঙ্গ জাদুঘরে।
লেখক ও কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত আমার পূর্ব পরিচিত, শ্রদ্ধার মানুষ, জ্ঞান গরিমায় স্বাতন্ত্র্য। ২০২৪ এর সিডনির একুশে বইমেলায় আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আশীষ দেয়ার লগ্নটি এখনো স্মৃতিতে জ্বলজ্বল। তাঁকেই শুধু জানিয়েছিলাম এসেছি এবং নীরব আছি। আমার নীরব থাকাটা বেশিদিন গড়ায়নি। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র কুড়িগ্রামের সন্তান অনুজ ডাঃ ইমরান এইচ সরকার, জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ রাজবাড়ীর পুত্রবধূ অ্যাডভোকেট সানজিদা খানমের মাধ্যমে পরিচয় হয় বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠক ড. সিরাজুল হক, ড. সুলতান মাহমুদ, নেহাল বারী, সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক শফিকুল আলম শফিক ভাই, দিদার ভাই, রিপন ভাই, শাহাজাদা ভাইসহ সিডনি প্রবাসী অনেকের সাথে।
ইমরান ও সানজিদা আপা বিপদবেষ্টিত হয়ে এ শহরেই আশ্রয় নিয়েছেন। এরপর থেকে একজন দু’জন করে জানতে জানতে অনেকেই জেনে ফেলেছেন আমিও শহরে আছি। ফলে অনেকের সাথে দেখা হয়েছে। শুরু হয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। এই যোগাযোগের ফলে এবারে বেশ কয়েকজন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে। এবারে এখানে এসে অনেকের সাথে দেখা হয়েছে যাদের মধ্যে প্রধানতম সিডিনি শহরের সবচেয়ে আমুদে ও সংগ্রামী মানুষ গামা আব্দুল কাদির ভাই। বয়স তাঁর মাত্র তিরাশি বছর। এ শহরে রয়েছেন ১৯৭৭ সাল থেকে। দলমত নির্বিশেষে শ্রদ্ধার মানুষ। তরুণ থেকে তরুণী সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করেন ও পরম আস্থার মানুষ ভাবেন। এমন কোন সামাজিক অনুষ্ঠান নেই যেখানে তাঁর ডাক পড়েনা। জন্মদিন থেকে জন্মাষ্টমী, শ্রাদ্ধ্য থেকে সদকা প্রদান সব অনুষ্ঠানেই গামাভাই।
গত নভেম্বর মাসে লাকাম্বায় একটি চার্চে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রথম পরিচয় হয় তাঁর সাথে। তিনিই এ শহরে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, অস্ট্রেলিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ খ্রিস্টান ফেলোশীপ, অস্টেলিয়া পূজা পরিষদসহ বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। এদেশে যারা বিপদগ্রস্থ হয়ে আসেন তাদের অনেকেরেই সহায় তিনি। তাঁর বাড়িতে থেকে অনেকেরই প্রবাস জীবনের সূচনা। চার্চের সেই অনুষ্ঠানের পর থেকে গামাভায়ের সাথে আমার নিত্য কথা বার্তা। ব্লাকটাউন (আমি বলি ‘কৃষ্ণনগর’) এলাকায় তাঁর বাসা। আমিও একই এলাকায় ছেলের ভাড়া বাসায় থাকি। মটরগাড়ীতে ৮ মিনিটের দূরত্ব। কোনো অনুষ্ঠান হলে তিনি আমায় নিয়ে যান। আমরা দু’জন ব্লাকটাউন রেলস্টেশনে মিলিত হয়ে তারপর কোথাও যাই। ফেরার সময় তাঁর গুণমুগ্ধদের কেউ কেউ একদুই ঘন্টার ড্রাইভ করে আমাদের পৌঁছে দিয়ে যান কৃষ্ণনগরে। যারা এতদূর পথ পৌঁছে দিতে আসেন তাদের চোখমুখে কখনো বিরক্তির প্রকাশ দেখিনি। সকলেই শ্রদ্ধা আর ভক্তিতে এগিয়ে আসেন।
এই শ্রদ্ধাভক্তি একদিনের নয়। প্রায় প্রতিদিনই অনুষ্ঠান থাকে, ফলে প্রতিদিনই এরকম ঘটনা ঘটে। এমনও দেখেছি গামাভাই একদিনে সিডনি শহরের তিন মাথায় তিনটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। সে জন্য তাকে যে পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তা বাংলাদেশ দেড় দুবার ঘুরে আসার সমান। একটু বলে রাখি, গামা আব্দুল কাদির একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান যুগে ছাত্রলীগের নেতা। ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন ও গাজী গোলাম মোস্তফার সহকর্মী ও স্নেহধন্য। তাঁর বন্ধুরা দেশের অনেক বরেণ্য মানুষ। তারই সহপাঠি আপেল মাহমুদ (বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও কণ্ঠশিল্পী),বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল জব্বার। তিনি সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, শেখ ফজলুল হক মণি, তোফায়েল আহমেদ, আ.স.ম রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শেখ শহিদসহ অনেক ছাত্রনেতাদের সাথে রাজনীতি করেছেন। পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার দেশে পর বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি হলে তিনি বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে চলে আসেন। দেশে না থাকলেও তাঁর মনটা দেশের ভাবনাতেই থাকে সবসময়। এই দহনকালেও তিনি দিল্লী কলকাতা করে এসেছেন নেতাদের সাথে কথা বলতে।
গামাভাই, বাংলাদেশের চলমান সংকটে বঙ্গবন্ধুর অবমাননা কিছুতেই মানতে পারেননি। এ জন্য তাঁর ভীষণ মন:কষ্ট। এখনো আওয়ামী লীগের বা তদীয় কোন প্রতিষ্ঠানের কোন অনুষ্ঠানের খবর পেলেই তিনি ছুটে যান। মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংগঠনগুলোতে সাধারণত: নানা ধরণের গ্রুপিং লবিং থাকে। সেসকল গ্রুপিং লবিংয়েও তিনি সর্বজনিন থাকার চেষ্টা করেন। ন্যয্য কথা ও ন্যয্য সমালোচনা করতেও ছাড়েন না। তিনি দলের সীমাবদ্ধতাগুলোকে যথেষ্ট সমালেচানাও করেন।
তাঁর আট দশকের বেশি জীবন। এই বয়সে বৈষ্যয়িক বিষয়ে তাঁর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তবু সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত যোগদেন। এসব সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে যৌক্তিকভাবে কিছু অর্থ ব্যয় হয়। তিনি এজন্য কুণ্ঠিত হয়েছেন, এমনটি কখনো দেখিনি, বরং সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অকাতর। তাঁর তারুণ্য নিয়ে আমার শিক্ষক সিডনি প্রবাসী এমিরেটস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অ্যাশফিল্ডের একুশে বইমেলার অনুষ্ঠানে অনেকের সামনে আমাকে গামা ভায়ের তারুণ্য সম্পর্কে বলেছেন- তিনি, গামা ভাইকে সাড়ে তিন দশকধরে দেখছেন,একইরকম, তাঁর বিন্দুমাত্র পরিবর্তন নেই, একই ছন্দে তিনি ছুটে চলছেন।
সত্যিই তিরাশি বছরের একজন মানুষ গামা ভাই, যার ছুটে চলা দেখলে মনে হবে তিনি আবারও যুদ্ধে যেতে পারবেন। একটা মজার বিষয় লক্ষ্য করেছি- কোন বিষয়ে দ্বিধান্বিত কাউকে রাজী করাতে হলে গামাভাই মোক্ষম অস্ত্র। দ্বিধান্বিত ব্যক্তিটিকে রাজী করানোর দায়িত্ব পেলে তাঁকে তিনি রাজী করিয়েই ফেলেন, সেটি মিস হবার নয়। সে ব্যক্তিটি দেশী-বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপুটে শিক্ষক হন, অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচিত প্রতিনিধি হন, বা অজয় দাশগুপ্তের মতন সোচ্চার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হন। বিষয়টি অবাক হবার মতনই। অনিবার্য় না হলে তাঁর কথা কেউ ফেলতে পারেন না। কয়েকটি সেমিনার সিম্পোজিয়ামে গিয়ে অন্তত সে দৃশ্যই চোখে পড়েছে আমার। অনেকেরই ধারণা লোকটির হয়তো সংসার নেই। সংসারী লোকতো এরকমভাবে ছুটতে পারেন না। বিষয়টি প্রথম প্রথম আমারও সেরকমই মনে হয়েছে। বিশিষ্ট সংগঠক ও পত্রিকা সম্পাদক নোমান শামীম যখন আমায় জানালেন ভাই এই হাসিখুশী লোকটার মধ্যে একটা বড় বেদনা লুকিয়ে আছে। তিনি বেদনা লুকিয়েই আমাদের সাথে মিশেন। সময় দেন। হাসি মুখে থাকেন। বললাম কি এমন বেদনা বলবেন কী? তিনি জানালেন ভাবী (গামা ভায়ের স্ত্রী) প্রায় দেড় দশক ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। তিনি ভাবীকে যেমন সময় দেন, তেমনি আমাদেরকেও। একবারও বুঝতে দেননা নিজের কষ্ট।
এরপর একদিন তাঁর বাসায় যাওয়া হলো, জিজ্ঞেস করলাম ভাবী কই? তিনি জানালেন প্রায় দেড় দশক ধরে হাসপাতালে। কখনো সখনো বাসায় আনলেও হাসপাতালেই কাটাতে হয় ভাবীকে। রোগ শয্যায় একজন রোগীর দেড় দশক শুয়ে থাকা কি কষ্টের তা ভূক্তভোগী ছাড়া কারুরেই উপলব্ধি করা সম্ভব নয। বললাম, আপনি যান কিনা সেখানে, তিনি জানালেন প্রতিদিন ভাবীর সাথে তিনি ৪ (চার) ঘণ্টা কাটান, সময় দেন। দেড় দশক ধরে স্ত্রীর শয্যাপাশে তাঁর অবস্থান, আমাকে মনে করিয়ে দেয় তাজমহল নিয়ে বনফুল এঁর লেখা ফকির শাজাহানের গল্পটির কথা।
গামা ভাই, একরাশ কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে চলেন। এ বয়সে তার নিজেরই শুশ্রুষা দরকার। কিন্তু থামা নেই, ছুটেই চলেছেন। নিজেই রাধেন, নিজেই বাড়েন। একমাত্র ছেলেরও দেকভাল করেন। গৃহস্থালিসহ সামাজিকতা সবকিছুতেই গামা ভায়ের উজ্বল উপস্থিতি আর মিষ্টি হাসি সবারই প্রাণে দোলা দেয়। আমার মতন বিদেশবিভূঁইয়ে পড়ে থাকা মানুষটিকেও তিনি টেনে নিয়ে চলেন কত কত অনুষ্ঠানে। যেনো নাতীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন। তাঁকে দেখে প্রাণ পাই, আশা জাগে, উৎসাহ পাই বিপদেও প্রফুল্ল থাকতে।
সিডনির গামা আব্দুল কাদির আসলেই গামা। কষ্টকে পাথর চাপা দিয়ে চলতে তাঁর জুড়ি নেই। গামা ভাই আমারও নিদানকালের বন্ধু বটে। জয়তু গামা ভাই।








