Wednesday 07 October, 2026

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, জনমনে তীব্র ক্ষো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 22:08, 6 October 2026

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, জনমনে তীব্র ক্ষো

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা পরিয়ে অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এ অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা রঙের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যটির মাথার অংশে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া জুতার মালায় ৫টি জুতা বা স্যান্ডেল ছিল। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে এটি।

আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সভাপতি শারমিন সুলতানা ঘটনাটিকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়দের খবরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি অপসারণ করেন। এ ঘটনাকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন তিনি।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’

ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়—জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা; ভাস্কর্যস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কোনো দক্ষ ও ভালো স্থপতির মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি সঠিক অবয়বে পুনর্নির্মাণ।

 

News Editor : Shahrina Sharmin