Saturday 06 June, 2026

শিশুর কাছে শেখা: ডোন্ট মেক জাজমেন্ট

এস.এম. আব্রাহাম লিংকন 

প্রকাশিত: 10:13, 18 March 2026

আপডেট: 01:47, 19 March 2026

শিশুর কাছে শেখা: ডোন্ট মেক জাজমেন্ট

জাজমেন্ট কথাটি নিয়ে আমরা বয়সে বড়রা মাথা ঘামাই। রাজনীতিবিদরা কথা বলি। আইনজীবীরা তো নিত্য এরসাথেই বসবাস করেন। জাজমেন্টের সাথে একজন আইনজীবীর খ্যাতি ও রুজির সম্পর্ক। একজন নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার সম্পর্ক। জাজমেন্ট বলতেই মাথায় আসে আইন আদালত সৃষ্ট সিদ্ধান্ত। আমি সাড়ে তিন দশক পেশাগত কারণে আদালত পাড়ায় থাকি। মানুষের জন্য আইনগত লড়াই করি। সে লড়াইয়ে কতটুকু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি তা ভূক্তভোগীরা বলতে পারবেন। তবে আদালতে নিত্য যাওয়া আসায় যে নিজের রুটি রুজির ব্যবস্থা হয় তা স্বীকার করতে লজ্জা নেই। এটিই আমার জীবন ধারণের একমাত্র পথ। 

জাজমেন্ট নিয়ে মাথা ঘামায় বিচারক, আইনজীবী। টেনশনে থাকেন ভূক্তভোগী ও মোয়াক্কেলরা। অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে তাঁদের লম্বা আইনী লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। যে জন্য তাঁরা আমাদের পয়সা যুগিয়ে যান। মামলা কবে শেষ হবে মানে কবে চূড়ান্ত ফলাফল বা রায় পাবেন সেটি অনিশ্চিত। আইনের আশ্রয়ে আসা নাগরিকদের সে জন্য অনাদীকাল অপেক্ষা করতে হয়। আমার প্রয়াত বিজ্ঞ সিনিয়র অ্যাডভোকেট এটি এম এনামুল হক চৌধুরী চাঁদ বলতেন- আমাদের দেশে মামলা মোকদ্দমায় পড়া  মানে ‘নিশ্চিত ব্যয় অনিশ্চিত ফলাফল’ (ভার্ডিক্ট)। আমি তাঁর উদ্ধৃতির সাথে ‘সীমাহীন সময় অপচয়’কে যুক্ত করে বলে থাকি ‘নিশ্চিত ব্যয়, সীমাহীন সময় অপচয় আর অনিশ্চিত ফলাফল’। 

অনেকেই অভিযোগ করেন আমাদের আইন আদালত নিয়ে। আদালত পাড়ায় বিচারের কেনা বেচার কানাঘুষা নিয়ে। শক্ত অভিযোগ রয়েছে পথঘাটের মিছিল মিটিং দেখে বিচারের গতিপ্রকৃতি বদলের। বিচারকদের ঠেঙ্গিয়ে বিদায় করা। বিচারকের দরজায় লাত্থি মারা। সেগুলো অবশ্য আদালত পাড়ার কথা। বিচার যে শুধু আদালতেই হয় তা নয়, এর বাইরেও বিচার আছে। রায় আছে, মন্তব্য আছে। যেগুলো সমাজ, ব্যক্তি, পরিবার ও বিবেককে নাড়া দেয়, প্রভাব ফেলে। বাস্তবে পরিবার সমাজ ও পথ ঘাটে ছোটখাটো অনেক বিষয়ে এরকম রায় হরহামেশাই দেখে থাকি। যারা এসকল বিচার করি, মন্তব্য করি, রায় বা ফলাফল দিয়ে থাকি তারা বুঝতেই পারি না যে একটা ঘটনার রায় দিয়ে ফেললাম। অথচ তা দেয়া উচিৎ হয়নি। আমরা একবারও ভাবিনা মন্তব্য বা ফলাফল প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ঘটনার কার্য়কারণ বিবেচনা (জাজ) করার দরকার আছে। যে কোন বিষয়ে মন্তব্য করার আগে ঘটনার কারণ জানাটা খুবই জরুরী। কার্য়কারণ জানার আগে জাজমেন্ট দেয়া অন্যায্য ও অন্যায়। 

আমরা জানি যুক্তিগ্রাহ্য কারণ থাকলে কখনো কখনো আত্মরক্ষার্থে হত্যাকান্ডও বৈধ্য হয়। শুধু তাই নয় সেটি সংবিধানে মৌলিক অধিকারেরও অন্তর্ভূক্ত। কৃত ঘটনাটি বৈধ না অবৈধ।হন্তারক সুস্থ্য না অসুস্থ? তা নিবির পরীবিক্ষণ ও সাক্ষ্য প্রমাণের পরই বলা যাবে। একটা উদহারণ এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি- জন হিনকলি জুনিয়র (John Hinckley Jr.) নামে এক ব্যক্তি ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ ওয়াশিংটন ডিসিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টে রোনাল্ড রিগ্যানকে হত্যার জন্য গুলি করে। এতে প্রেসিডেন্ট মৃত্যুবরণ না করলেও গুরুত্বরভাবে আহত হন। শল্য চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ্য হন। এ ঘটানায় জন হিনকলিকে বিচারের আওতায় আনা হয়। ঘটনার সময় সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল বলে প্রমানিত হলে আদালত তাকে “not guilty by reason of insanity” উল্লেখে সাজা থেকে অব্যাহতি দেয়। আসামী আদালতের আদেশে চিকিৎসার জন্য মানসিক হাসপাতালে (St. Elizabeths Hospital, Washington D.C.) তে ২০১৬ সাল পর্য়ন্ত ছিলেন। পরে তাকে শর্ত সাপেক্ষে সেখান থেকে ছেড়ে দেন। ২০২২ সালে আদালত সে শর্তও বাতিল করে দিলে জন হিনকলি পুরাপুরি মুক্ত হন। 

ঘটনাটির উল্লেখ এ কারণে করলাম যে, পৃথিবীর ক্ষমতাধর মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে গুলিবিদ্ধ করার অপরাধেও একজন আততায়ীকে সাজা দেয়া যায়নি। বিচারে আসামী কর্তৃক কৃত ঘটনার সত্যতা থাকলেও আদালত মানসিক স্বাস্থ্য ও ঘটনার কার্য়কারণ বিবেচনায় আসামীকে সাজা প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন। আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকে গুলি করার পরও আসামী সাজা পায়নি। বিষয়টি কাল্পনিক মনে হলেও চরম সত্য। আমাদের দেশে বিচারের আগে বিচার হরহামেশাই। অপরাধী হোক বা নাহোক। বাদীর প্রতিপক্ষ হলেই তাকে ধরে আগে মাইরপিট তারপর থানা- পুলিশ-আদালত।

আমরা একবারও ভাবিনা কৃত ঘটনা নিয়ে জাজমেন্ট করা বা ফলাফল প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ঘটনার কার্য়কারণ বিবেচনা (জাজ) করার দরকার আছে। কোন বিষয়ে মন্তব্য করার আগে ঘটনার পিছনের কারণ জানাটা খুবই জরুরী। কার্য়কারণ জানার আগে জাজমেন্ট করা অন্যায্য ও অন্যায়। জাজ করার আগে জাজমেন্ট দেয়া সঠিক নয়। দিলে সেটি শুধু অনৈতিকই নয় বরং বলতে পারেন অন্যায় বা অবৈধও বটে। 

আমারা আদালত বলতে সাধারণত লালসালুর ভেতরে জজ-ব্যারিস্টার, হাকিম-পেশকার পরিবেষ্টিত একটি কাঠামোকেই বুঝে থাকি। সেখানে যে বিচার হয়, আমরা সেটিকেই বিচার হিসেবে জানি ও মানি। আইনানুগ অর্থে সেটি সত্যি হলেও এর বাইরেও নিত্য বিচার হয়। সে বিচারের ফলাফলও আমরা পেয়ে থাকি। যেখানে আমরা কেউ বিচারক কেউবা ভিকটিম। সমাজ ও রাষ্ট্রে এই ইনফর্মাল জাস্টিসের সংখ্যাই বেশি। সেখানে বিচারক ও ভিকটিমের সংখ্যা অকল্পনীয় ভাবে অনেক। এরুপ ইনফর্মাল বিচার শুধু যে বাংলাদেশেই হচ্ছে তা নয়, আরো অনেক দেশেই এরুপ দেখতে পাওয়া যায়। আমরা এ বিচারের একটি পক্ষ হলেও বুঝতেই পারিনা আমরা একটা পক্ষ। প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া করার নামে নিজের অজান্তে নিজেই বাদী নিজেই বিচারক হয়ে যাই। এই বিষয়টি নিয়ে কখনো মাথায় ঘামাইনি। এরুপ কাজ যে সঠিক নয় তা ৬ (ছয়) বছরের একটি শিশুর কাছ থেকে শিখলাম। আসলে শিশুদেরও পর্য়বেক্ষণ আছে। ভুল শুদ্ধের বিবেচনা আছে। অথচ শিশুদের আমরা পাত্তাই দেইনা। দেই না বলে আমাদের কাছে সুবর্ণ আইজ্যাক বারীর মতন শিশুরা জ্ঞানী হিসেবে মূল্যায়িত না হয়ে অকাল পক্ক বলে বিবেচেত হয়। যাহোক মূল প্রসঙ্গে আসি। কি ভাবে একটা ৬ বছরের শিশু আমার মতন ৩৪ বছর ধরে আইন কলেজের অধ্যক্ষ থাকা ব্যক্তিকে জাজ আর জাজমেন্ট শেখালো বরং সে গল্পই বলি। 

আমেরিকায় এলে রহিমুজ্জামান সমুনের নিউইয়র্কস্থ অ্যাস্টোরিয়ার বাসায় আসা হয়। ২০২৪ এর জুলাই মাসে ওর বাসায় প্রায় পুরো সময়টা থাকতে হয়েছে। ৫ জুলাই ২০২৪ মিলন কুমার রায় ও সুমন দু’জনই জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে এসেছে আমায় নিতে। মিলনের স্ত্রী দিপালী, সুমন ও সুমনের স্ত্রী শাপলা পরস্পর নিকট বন্ধু। সে সুত্রে মিলনের সাথে  সুমনের বেশ ঘনিষ্টতা। মিলন আমায় ওর বাসায় নিতে এসেছে। কিন্তু সুমন জোর করে আমার লাগেজ ওর গাড়ীতে তুলে ওর বাসায় এনে তুলেছে। জায়গা হয়েছে ওর ছেলে সাফাতের রুমে। নিউইয়র্কে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের বাসস্থান গুলো বেশ সংকীর্ণ। সাফাতের রুমে আমার ঠাঁই  হয়। সাফাত ওর ছোট্ট রুমটি  দখল হওয়ায় একটু মন:ক্ষুন্ন। সুমন ও শাপলা আমি বাইরে গেলেও আমায় লাগেজ নিয়ে বেরুতে দেয় না। ছেলের কারণে ভয়, যদি না ফিরি, অন্য কোথাও উঠি। সুমন ও শাপলা ওদের দু’জনের মধ্যে বেশ সমঝোতা। স্বামী স্ত্রী হলেও  দু’’জনে সহপাঠি বন্ধু। শৈশবের ভালোবাসা পরস্পরকে এখানে ভাসিয়ে এনেছে। ওরা উচ্ছ্বলতায় এখনও সমুজ্বল। আমি আসার পর সুমনই আবিস্কার করেছে আমি ওর সম্পর্কে ‘দাদু’ হই। ওর বাবার মামা ও মামী প্রয়াত আব্দুল করিম তহশিলদার আমাদের দুলাভাই ও বোন। সে সুত্রে অবশ্যই দাদু। এরপর সামাজিক ভারী ভারী পদপদবী বাদ দিয়ে ও দাদু-নাতীতে যেরুপ সম্পর্ক থাকে সেই সম্পর্কই মেনে চলে। যেন ওর প্রকৃতই দাদু আমি। উল্লেখ্য কুড়িগ্রামের প্রয়াত পাবলিক প্রসিকিউটর ও প্রথম মহিলা আাইনজীবী রেহেনা খানম বিউটি, বিশিষ্ট রাজনীতিক শফিকুল  ইসলাম বেবু ও সহিরুজ্জামান সাজুর মা আমার খালাতো বোন। যাঁকে আমারা বেগম বুবু বলে ডাকতাম। 
আমার সাথে ওদের যতই খাতির হোক ওদের ছোট্ট ছেলে সাফাতের আমার প্রতি মন:কষ্ট ছিল। এবার ২৪ মে ২০২৫ ওর রুমেই আবার আমার জায়গা হয়েছে। ভয়ে আছি কিন্তু দেখলাম সাফাতের বেশ পরিবর্তন হয়েছে। বেশ খাতির করছে। ওর সাথে আমার বেশ বন্ধুত্ব জমেছে। আমিও ওকে সময় দিচ্ছি। প্রাধান্য দিয়ে চলছি। আসলে শিশুরাও বোঝে নিজের আদর যত্নের হিসাব। এবারে আমার দেশে ফেরার তাড়া নেই। তাই ওকে চটিয়ে নিজের বাসস্থান খোয়নোটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলে ঝুঁকি এড়িয়ে বন্ধুত্ব করেছি। সাফাত নিজে থেকেই বলেছে, আমি ওর রুমে যেন কমপক্ষে তিন মাস থাকি। ওকে নিয়ে নদীরপাড়ে (হার্ডসন রিভার) যাই। ও সাইকেল চলায়, আমি হাটি। বন্ধের দিন ওকে সকার (ফুটবল) খেলার জন্য অ্যাস্টোরিয়া পার্কের মাঠে নিয়ে যাই। ওর স্কুলের বড় অনুষ্ঠানেও যাওয়া হয়েছে। সুমন যতই ব্যস্থ থাক। গাড়ী চালিয়ে যত দূরেই যাক।  স্কুল ছুটির সময় স্কুল থেকে সাফাতকে আনার দায়িত্ব ওর ভাগে। ওদের মেয়েটা স্কুল যায় বাসে করে। সাফাত এখনো ছোট তাই স্কুল আনা-নেয়ার কাজটি ওদের স্বামী স্ত্রীকেই করতে হয়। সাড়া রাত গাড়ী চালিয়ে ক্লান্ত সুমন ঘড়ির শব্দে জেগে ওঠে। ছেলেকে আনতে যায়। যাওয়ার সময় আমাকেও নিয়ে যায়। সামনে দেখতে পাওয়া যায় বলে আমি চালকের পাশের সীটটাতেই বসি। এতে সাফাতের আপত্তি। ও সামনে বসতে চায়।

পুলিশের ভয় দেখিয়ে সুমন সবসমই ওকে বিরত রাখে। ফলে সাফাতকে পিছনেই বসতে হয়। ২ জুন ২০২৫ সাফাতকে পিএস ১২২  স্কুল থেকে নিয়ে অ্যাস্টোরিয়ার ২১ স্ট্রিট ধরে বাসায় ফিরছি। এমন সময় একজন লোক হঠাৎ এলামেলাভাবে রাস্তা পেরুচ্ছিলো। যে ভাবে পেরুচ্ছিলো তা দেখলে যে কারুরেই মনে হতে পারতো লোকটি হয় দুষ্টু নয়তো নেশার ফলে এমনটি করছে। হঠাৎ করে গাড়ীর সামনে পড়ায় সুমনকে বাধ্য হয়ে হার্ড ব্রেক করতে হয়। এতে সুমন একটু ক্ষিপ্ত হয়ে স্লাগ ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে। লোকটাকে মাতাল জাতীয় কিছু বলছিলো। কারণ দূর্ঘটনা হলে তো সুমনেরই দোষ হবে, গাড়ীটাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সুমন যখন লোকটাকে নিয়ে মাতাল ও বেয়াদব জাতীয় কিছু বলছিলো। তখন দেখলাম ছোট্ট শিশু সাফাত চিৎকার করে সুমনকে বলছিলো ‘“আব্বু ‘ স্টপ! ডোন্ট মেক জাজমেন্ট”। আমি বুঝে উঠতে পারিনি। সাফাত হঠাৎ কেন বলছে ‘‘আব্বু স্টপ. ডোন্ট মেক জাজমেন্ট”। রাস্তাঘাটে জাজমেন্ট বা রায়ের কি হলো। সুমন নিজেকে সামলে নিয়ে বলছে- সরি আব্বু, সরি। পিতা পুত্রের কথোপথনের বিষয়টি মাথায় ঘুরপাক করছে। 

আমরা দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে আবারও চলতে শুরু করলাম। সাফাতকে জিজ্ঞেস করলাম আঙ্কেল তোমার বাবাকে কেন বলছো ‘ডোন্ট মেক জাজমেন্ট? ওর উত্তর শুনে আমি অবাক! বিষ্মিত! বললো- আব্বু কি জানে লোকটি ড্রিঙ্ক করেছে ? তিনি কি তাকে খেতে দেখেছেন? তার তো শারীরিক অন্যকোন সমস্যাও থাকতে পারে। যে কারণে ইমব্যালান্স হয়ে এলামেলোভাবে রাস্তা পার হচ্ছিল। অথবা তিনি হ্যান্ডিক্যাপ (শারীরিক ভাবে ডিজএবল বা সমস্যাগ্রস্থ) যার ফলে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন না। বাবাতো জানেন না। না জেনে তিনি কেন বললেন- লোকটি মাতাল, বদমাশ। এটা বলা তো তিনি সঠিক করেন নাই। ক্লাশ ওয়ানের একটা শিশুর মুখে এরকম ভারী অথচ অর্থবহ কথা শুনে হতভম্ব। আমার আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। 

আমাদের দেশের আদালত পাড়ায় বিচারকের সামনে কাঠগড়ায় নেয়ার আগেই আসামীর এক দু‘বার সাজা হয়। জুতার মালা পড়িয়ে দেয়া হয়। গায়ে থুথু ছিটানো হয়। জ্যন্ত আমিষ জেনে ডিম দিয়ে ঢিলানো হয়। আদালত চত্ত্বরে একজন আসামির মার পিটের শিকার হওয়া আজকাল সামান্য বিষয়। পিটুনি দিয়ে কাউকে মেরে ফেললে সেটি অন্যায় বলা হয় না বরং অভিধা দেয়া হয় ‘মব জাস্টিস’। হন্তারকরা বীরসন্তান। অবাক হই, যখন দেখি একজন শিশু কৃত আচরণের কারণ না জেনে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করাকে অন্যায্য বলছে। বলছে- জাজ (যাচাই) করার আগে জাজমেন্ট করা ঠিক নয়। বিষ্মিত হয়ে ভাবতে থাকি- নির্ভরশীল শিশুরাও পিতার অন্যায়ের পক্ষ নেয় না। শিশুও বিচার বুঝে। জাজমেন্ট বুঝে। ন্যায় অন্যায় বুঝে। আমরাই বুঝিনা কোনটা জাজ আর কোনটা জাজমেন্ট।