Saturday 11 July, 2026

মহান ভাষা বীর শহীদদের স্মৃতির স্তম্ভের পাশে শৌচাগার নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 12:36, 10 July 2026

মহান ভাষা বীর শহীদদের স্মৃতির স্তম্ভের পাশে শৌচাগার নির্মাণ

মহান ভাষা বীর শহীদদের স্মৃতির স্তম্ভের পাশে শৌচাগার নির্মাণ

মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবহেলা ও অবমাননার এক নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সুরিটোলা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ভাষা শহিদদের স্মরণে বহু বছর আগে নির্মিত একটি পবিত্র শহিদ মিনারকে আক্ষরিক অর্থেই অবরুদ্ধ ও অবমাননা করে তার চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে শৌচাগার ও নতুন পাকা স্থাপনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সচেতন মহলে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, অযত্ন আর অবহেলায় দাঁড়িয়ে থাকা সাদা রঙের এই ঐতিহ্যবাহী শহিদ মিনারটির চারপাশ যেন গ্রাস করে নিয়েছে নতুন এক কংক্রিটের স্থাপনা। মিনারটির ঠিক গা ঘেঁষেই তৈরি করা হয়েছে শৌচাগার, যা শুধু পবিত্র এই স্মারকের সৌন্দর্যই নষ্ট করেনি, বরং ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে।

একটি বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে কীভাবে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি সাধারণ মানুষের নজরে আসার পর থেকেই তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন শিক্ষাবিদ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, শহিদ মিনার কোনো সাধারণ ইটের দেয়াল নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্ব ও অহংকারের প্রতীক।

বিশ্লেষকদের প্রশ্ন— “যে ভাষা শহিদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ বাংলায় কথা বলছি, তাদের স্মৃতির ওপর এমন নোংরা স্থাপনা তৈরি করা কি চরম অবমাননা নয়? কোমলমতি শিশুরা যে বিদ্যালয়ে বড় হচ্ছে, সেখানে শহিদ মিনারকে এভাবে অবরুদ্ধ করে তাদের কী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে?”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই শহিদ মিনারটি অনেক পুরনো। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হতো। কিন্তু বিদ্যালয়ের নতুন এই নির্মাণকাজের পর শহিদ মিনারটির মর্যাদা সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। শৌচাগারের মতো একটি সংবেদনশীল স্থাপনা শহিদ মিনারের ঠিক পাশে কেন করতে হলো, তা নিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলছেন এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের জোরালো দাবি, অবিলম্বে শহিদ মিনারের চারপাশ থেকে এই অবমাননাকর স্থাপনা ও শৌচাগার অপসারণ করে মিনারের পবিত্রতা ও গৌরব ফিরিয়ে আনা হোক। একই সাথে, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনারের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।