সংসদ অভিমুখে ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি
ভারতের পার্লামেন্টে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ করেছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভের অনুমতি না থাকলেও দেশটির রাজধানীতে সমবেত হওয়া হাজারও বিক্ষোভকারীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশ।
আজ সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় সিজেপি। এতে যোগ দিতে দেশজুড়ে হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা জড়ো হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ককরোচ পার্টির সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লি পুলিশ লাঠি ও ব্যাটন ব্যবহার করে। মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় জ্যামার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় মুঠোফোনের পরিষেবা।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে দিল্লির রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও সেবা তীর্থ- এই পাঁচটি মেট্রোরেল কেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
এতে বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি মেট্রোরেল কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষদেরও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। শত শত যাত্রী পথে আটকা পড়েন অথবা গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে বাধ্য হন।
এমন পরিস্থিতিতে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানায় সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কোনো স্থানে আপনাদের আটকে দেওয়া হলেও শান্ত থাকুন এবং শান্তি বজায় রাখুন। শান্তি ও ভালোবাসার মাধ্যমেই আমরা জয়ী হব।’
বিক্ষোভের আগে রাতভর যন্তর মন্তরে অবস্থান করেন আন্দোলনকারীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান।
সকালে স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের খাবার ও চা সরবরাহ করেন। পুলিশ বারবার এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানালেও তারা অবস্থান চালিয়ে যান।
শনিবার সিজেপির সমর্থনে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আয়োজকেরা অংশগ্রহণকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন, শুধু ভারতের জাতীয় পতাকা বহন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।








