বাংলাদেশ সফরে দল পাঠাচ্ছে না ভারত
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ পর্যন্ত তামিম ইকবালের অনেক চেষ্টায় ভেস্তে যাচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মন পেতে অনেক চেষ্টা করেছেন তিনি, কিন্তু বিষয়টি আর ভারতীয় বোর্ড-বিসিসিআই’র হাতেও নেই। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসার কথা ছিলো ভারতের। তবে তারা আর এখন দল পাঠাচ্ছে না। এতে করে বড় অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে দুইবার পেছানো সিরিজটি এখনি বাতিল হচ্ছে না। আরও অন্তত এক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। এরপরে ভারতের আসাটা নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর।
মূলত ২০২৪ সালে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আসার কথা ছিলো ভারতের। নির্ধারণ হয়েছিলো ২০২৩ সালে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে চরম অরাজকতা তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবে তারা আসেনি। তখনকার বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ২০২৫ সালের একটা উইন্ডো খোঁজা হয়।
২০২৫ সালে ফাঁকা সময় না থাকায় ২০২৬ সালের অগাস্ট-সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিলো উইন্ডো। এই সময়ে মুহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বতী সরকারের পালা শেষ হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আশা করছিলেন অনেকে। কিন্তু তা হয়নি, বরং সম্প্রতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে সব
গত সপ্তাহে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে আসেন। বিশ্বব্যাপী তার সংবাদ সম্মেলন বিশালভাবে কাভারেজ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই খবর প্রচারে ছিলো নিষেধাজ্ঞা। এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়ায় বিবৃতি দেয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে খুবই আপত্তিরক শব্দচয়ন ছিলো।
ভারত বারবারই বলে আসছে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচির সঙ্গে তাদের সরকারের সম্পর্ক। তারা কাউকে কোন কিছুতে বাধা দিতে পারে না। এদিকে ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা মারা হয়। এই অবস্থায় বাংলাদেশে নিরাপত্তার ঝুঁকিও দেখছে ভারত।
চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠায়নি বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ বর্জন করে তারা। রাজনৈতিক এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা এখনো করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে সেসব ভুলেই ভারত দল পাঠাতে রাজী ছিলো, কিন্তু দুই দেশের সরকারের রাজনৈতিক বৈরীতা বাড়তে থাকায় তা আপাতত আলোর মুখ দেখছে না।








