থার্ড টার্মিনালের ভবন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কাজই শেষ হয়নি
ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনালের ভবন নির্মাণ করা হলেও এর সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ শেষ করা হয়নি বলে সংসদে তুলে ধরেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এমন প্রেক্ষাপটে এ টার্মিনাল চালু করতে আরও ৯০২ কোটি টাকা চেয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ অর্থ অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর তথ্য দেন বিমানমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ও বরাদ্দের ব্যবস্থা করছে বলে রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তুলে ধরেন তিনি।
নোয়াখালী-৬ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন তিনি।
২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার কথা তুলে ধরে মাসউদ সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় বলেন, পরে কয়েক দফায় ব্যয় বাড়ানো হয়।
তার অভিযোগ, প্রকল্পের ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পরও বাকি শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ কাজের জন্য আরও ৯০২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে ঠিকাদারকে নতুন করে অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।
তার দাবি, টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হলেও এর সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ শেষ করা হয়নি। যন্ত্রপাতি আনা হলেও সেগুলোর সমন্বয়ের কাজও সম্পন্ন হয়নি।
আগের কিছু বকেয়া এবং অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে হিসাব করে আরও ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “এই ৯০২ কোটি টাকা পরিশোধ করলে তারপরে আমরা থার্ড টার্মিনালটা চালু করতে পারব।”
জাইকার অর্থায়নে নির্মিত প্রকল্পটির ঋণের একটি কিস্তি হিসেবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ১১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু না হলে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অব্যবহৃত পড়ে থাকবে।
টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে এবং আয় বাড়বে বলেও সংসদকে জানান তিনি। সেই আয় থেকে জাইকার ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে তার ভাষ্য।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, টার্মিনালের ইতোমধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ ‘অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার’ বা ওআরএটি কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।








