Wednesday 28 October, 2026

মুক্তিযোদ্ধার দাপনে বাধা, জবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 21:50, 27 October 2026

মুক্তিযোদ্ধার দাপনে বাধা, জবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

মুক্তিযোদ্ধার দাপনে বাধা, জবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ


পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করতে না পারার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

কর্মসূচির সঞ্চালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, ‘রাজাকার একটি চেতনা, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ভূখণ্ডগতভাবে পাকিস্তান পন্থা জিইয়ে রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারকে সংসদে বসানো হয়েছে, এর চেয়ে লজ্জাকর কিছু হতে পারে না।’

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় তখন এমন ঘটনা ঘটছে বলে তারা মনে করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ মর্যাদায় দাফন করতে না পারার ঘটনা দুঃখজনক।

রাসেল বলেন, ‘কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে যে নির্বাচিত সরকার এলো তাদের আমলেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হলো। এটি চরম ঘৃণ্য একটি কাজ। আমি সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। কাদের বাধার কারণে এটি হতে পারেনি, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। তারা ধর্মকে সব সময় রাজনীতি করার জন্য ব্যবহার করেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, তারা ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী একজন মুসলিমের দাফন কার্যক্রম পর্যন্ত সম্পন্ন হতে দেয়নি।’

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রসঙ্গ তুলে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘যারা ২৪-এর নাম করে ৭১-কে নস্যাৎ করতে চান, তাদের চিনে রাখা দরকার। যারা ৭১-কে ধারণ করতে পারেন না, তারা কোনো দিন ২৪-কেউ ধারণ করতে পারবেন না।’

 

News Editor : Abdullah Al Noman