Monday 19 October, 2026

‘আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবুও তারা মেরে ফেলেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 19:11, 18 October 2026

‘আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবুও তারা মেরে ফেলেছে’

‘আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবুও তারা মেরে ফেলেছে’

নিহত দিনমজুর শফিকুল ইসলামের ৯ বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘নিশাদ ও লিমন ঘর থেকে আমার আব্বুকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। ওইদিন কোনো ঝগড়া ছিল না। আমি ও আমার ছোটভাই সামিউল জানালা দিয়ে দেখছিলাম, আব্বুকে মারতে নিষেধ করেছিলাম। আমার আব্বুকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, তবুও তারা আব্বুকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার আব্বুর হত্যাকারীদের বিচার চাই, তাঁদের ফাঁসি চাই।’

কুমিল্লার দেবিদ্বারে দিনমজুর শফিকুল ইসলাম হত্যা এবং পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। ভূমিহীন সংগঠন ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় দেবিদ্বার নিউমার্কেটের স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে ভূমিহীন সংগঠন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বেলা ১১টায় উপজেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়।

নিহতের ১৭ বছর বয়সী ছেলে ইমন আহমেদ অভিযোগ করে জানায়, তার বাবার হত্যার বিচার চেয়ে থানায় গেলে শুরুতে পুলিশ সাক্ষী নিয়ে আসতে বলে। পরবর্তীতে মামলা নিলেও এখনো মামলার দুই নম্বর আসামি নিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তারও আকুতি জানিয়ে বলেন, স্বামীর জীবন ভিক্ষা চেয়েও তিনি বাঁচাতে পারেননি। চোখের সামনে স্বামীকে পিটিয়ে, কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হলেও পুলিশ উল্টো সাক্ষী চাইছে। আয়ক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অবুঝ সন্তানদের নিয়ে এখন দিশেহারা পুরো পরিবার।

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর উপজেলার বারুর গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে লিমন, তার ভাই নজরুল ইসলাম এবং নজরুলের ছেলে নিশাদ মিলে প্রকাশ্যে দিনমজুর শফিকুল ইসলামকে হত্যা করে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ লিমন ও নজরুলকে গ্রেপ্তার করলেও দুই নম্বর আসামি নিশাদ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরদিকে, গত ৫ অক্টোবর উপজেলার একটি গ্রামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাজহারুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তবে সেই অভিযুক্ত আসামিও এখন পর্যন্ত অধরা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পরেশ কর বলেন, দেবিদ্বারে একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মতো অপরাধ বাড়ছে। আইনি প্রয়োগ দুর্বল হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তৎপর হয়ে সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। ভূমিহীন নেতা আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ভূমিহীন নেতা লিল মিয়া, তজু মিয়া, রমিজ উদ্দিন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।