ঘনঘন লোডশেডিংয়: অর্ধেকের কমে নেমেছে খামারের ডিম উৎপাদন
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রামের তিন বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা জোয়ার্দ্দার পোল্ট্রি ফার্মে প্রায় তিন হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। খামারটিতে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার ডিম উৎপাদন হয়। কিন্তু সম্প্রতি ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেই উৎপাদন কমে ৫০০ থেকে ৭০০ পিসে নেমে এসেছে।
খামার মালিক পিন্টু জোয়ার্দ্দার জানান, লোডশেডিংয়ের আগে তার খামারে মাসে ৭৫ হাজারের বেশি ডিম উৎপাদন হতো। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মুরগির খামারে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। প্রতি মাস তার অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।
এ অবস্থা শুধু পিন্টু জোয়ার্দ্দারের একারই নয়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার প্রতিটি খামারিরই এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রান্তিক পর্যায়ে আট হাজার ২৯৫টি ব্রয়লার, পাঁঁচ হাজার ৯২৮টি লেয়ার এবং ৩৯৮টি হাঁসের খামার রয়েছে। এছাড়া কোম্পানি পর্যায়ে রয়েছে ৬২টি ব্রয়লার, ২১টি লেয়ার এবং ছয়টি হাঁসের খামার। এসব খামারের অনেকগুলোই বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলে উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়ছে।
মিরাজ হোসেন নামের আরেক পোল্ট্রি খামারি বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংর কারণে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। এতে ডিম উৎপাদন প্রতিদিন কমে আসছে। ফলে ফার্মে অনেক লোকশান গুনতে হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের কারণে পোল্ট্রি খামারিরা বিপাকে আছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং মুরগির ডিম উৎপাদনেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৬০ হাজার। এসব এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। এ দুই উপজেলায় ওজোপাডিকোর তিনটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রয়েছে।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির চুয়াডাঙ্গা এলাকায় গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৮৪ হাজার। এখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ১৩ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৭ মেগাওয়াট। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর—দুই জেলায় মিলিয়ে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয় সমিতিটিকে।
চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করছি। তবে লোডশেডিং পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, এখনই বলা যাচ্ছে না।
চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সক্ষমতা বিবেচনা করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় কিছু এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।








