দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট: বন্ধ হচ্ছে শত শত শিল্পকারখানা
দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাবে শত শত শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, আর রাজধানীর অনেক এলাকায় রান্নার গ্যাস না থাকায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে।
সংকটের মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, দেশে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল, যার প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট আসত আমদানিকৃত এলএনজি থেকে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে ৫০ কোটি ঘনফুটেরও নিচে নেমে গেছে, ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের সব খাতেই গ্যাসের সংকট বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বন্ধ থাকা টার্মিনালটি কবে চালু হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের ইউরিয়া উৎপাদন গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, যদিও প্রতিষ্ঠানটি দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকারখানা। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সার উৎপাদন থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হচ্ছে, যা মাসে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সমান। কারখানা বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চালু আছে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি আরও নাজুক। দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটে ধুঁকতে থাকা এই জেলার ডাইং কারখানাগুলো এতদিন সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস সংগ্রহ করে কোনোরকমে উৎপাদন সচল রেখেছিল। কিন্তু তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনায় সেই পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার দেড় শতাধিক ডাইং কারখানার উৎপাদন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে উদ্যোক্তারা দাবি করেছেন। এছাড়া গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজেল ও জেনারেটর দিয়ে বাড়তি খরচে আংশিক উৎপাদন কোনোমতে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
শুধু আশুগঞ্জ বা নারায়ণগঞ্জ নয়—তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শত শত কারখানা গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার শিল্পকারখানা গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, আর জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানিমুখী খাত—বিশেষত ডাইং, টেক্সটাইল ও সার উৎপাদন—আরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে। বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল কবে পুনরায় চালু হবে, তার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।








