Monday 27 July, 2026

গ্যাস সংকটে অতিষ্ঠ ভোক্তা, বন্ধ হচ্ছে ফিলিং স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 21:03, 26 July 2026

গ্যাস সংকটে অতিষ্ঠ ভোক্তা, বন্ধ হচ্ছে ফিলিং স্টেশন

গ্যাস সংকটে অতিষ্ঠ ভোক্তা, বন্ধ হচ্ছে ফিলিং স্টেশন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল শুক্রবারও গ্যাসের চাপ কম ছিল। এতে দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরে ঘরে চুলা জ্বলেনি। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির সারি আরও দীর্ঘ হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে কলকারখানায়। অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ভোক্তাদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। 

এদিকে মহেশখালীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অন্যতম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা বাংলাদেশে এসেছেন। 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশে রয়েছে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করলে শিগগির গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে গত মঙ্গলবার ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব গতকালও কাটেনি। আবাসিক এলাকায় চুলা না জ্বলা, সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে।

এমনিতেই দেশের চাহিদার চেয়ে ৩০ শতাংশ গ্যাস কম সরবারহ করা হয়। ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার স্থানে এলএনজিসহ সরবরাহ হয় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এখন তা নেমে এসেছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ৪৫ শতাংশ গ্যাস কম দেওয়া হচ্ছে। 

গত বুধবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক রাতভর অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, একটি স্টেশন চালাতে অন্তত ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেক এলাকায় এখন ৪ থেকে ৫ পিএসআই, কোথাও আবার ২ পিএসআইয়ের কম চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা বা ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে রান্না করছেন।

মিরপুরের গৃহিণী রানী বেগম জানান, দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। কয়েক দিন ধরে একই পরিস্থিতি চলছে। বিকেলে দিকে কিছুক্ষণের জন্য গ্যাস থাকে, তাও চাপ কম। গভীর রাতে আবার গ্যাস আসে। রাত জেগে রান্নাবান্না ও পানি ফোটাতে হচ্ছে।    

এদিকে গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে গতকাল মোহাম্মদপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। সেখানে বক্তারা দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সরবরাহ না দিয়েও বিল আদায় বন্ধের দাবি জানান। অন্যদিকে গ্যাসের ঘাটতিতে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে আনতে হয়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনালে ত্রুটির আগে প্রতিদিন ১৫০ কোটি ঘনফুট পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১২০ কোটি ঘনফুটে। 

এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে মঙ্গলবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে দেশের দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৯৫-১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা দেশে এসেছেন। তাদের পরিদর্শন শেষে মেরামত কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। তবে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।