Saturday 01 August, 2026

রাকসুর জিএস আম্মারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 11:42, 31 July 2026

রাকসুর জিএস আম্মারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ

রাকসুর জিএস আম্মারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর মতিহার থানা আমলি আদালতে অভিযোগটি করেন মারধরে আহত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা এমএস আসাদ উজ জামান। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার (২৪), এজিএস সালমান সাব্বির (২৬), রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব (২৪), রাবি ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজিব (২৭), রাবির সিনেট সদস্য ও ছাত্রশিবিরের উপদেষ্টা ফাহিম রেজা (২৬), জিয়া হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান ও নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদ। বাকিরা অজ্ঞাত।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতর ও বাইরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদুল হাসানের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা এমএস আসাদ উজ জামান উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি রাকসুর জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহমুদুল হাসানের মাথা, কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার আঘাত করেন। এতে মাহমুদুল হাসানের মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম, বাম চোখে আঘাত এবং বুকে বুকের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অন্য আসামিরাও লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে মাহমুদুল হাসানকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহমুদুল হাসানকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার আইনজীবী হযরত আলী বলেন, “মামলাটি আদালত সরাসরি গ্রহণ করেননি। এই অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে দেওয়া হয়েছে। তাদের দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।”  

তিনি বলেন, “অভিযোগে ১৭ থেকে ১৮ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।”

মারধরে আহত মাহমুদুল হাসানের বাবা এমএস আসাদ উজ জামান অভিযোগ করেন, খবরটি তিনি ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। পরে ২৮ জুলাই মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেননি। তাই আদালতে অভিযোগ করেছেন।