ককরোচ পার্টির উদযাপন নিয়ে বিতর্ক
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতাদের নাচ-গানের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দলটির বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, মাসব্যাপী আন্দোলন শেষে যখন অনেক প্রতিবাদকারী খাবার ও বাড়ি ফেরার ব্যবস্থার অপেক্ষায় ছিলেন, তখন দলের নেতারা উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন।
বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি আন্দোলনের সময় সিজেপির মঞ্চে অনশন করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘বিজয়ের সঙ্গে বিনয়ও থাকা উচিত।’ তার ভাষায়, সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি মর্যাদা, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ভাষ্যকার ও ইউটিউবার মেঘনাদ দলের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর যন্তর-মন্তরে অবস্থান করা কয়েক ডজন প্রতিবাদকারী ও স্বেচ্ছাসেবক খাবার ও বাড়ি ফেরার অর্থের অভাবে বিপাকে পড়েন। তাদের অনেকের যাতায়াত ও খাবারের ব্যবস্থা তিনি এবং কয়েকজন সহযোগী নিজেদের অর্থে করেছেন।
মেঘনাদ লেখেন, ‘গত দুই দিন আমরা নিজেদের অর্থে পরিত্যক্ত ও অনাহারে থাকা সিজেপি স্বেচ্ছাসেবক ও প্রতিবাদকারীদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। কিছু বলার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু এই ভিডিও দেখার পর আর চুপ থাকতে পারিনি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আপনারা যখন উদযাপন করছিলেন, তখন ৭০ জনের বেশি প্রতিবাদকারী ও শিক্ষার্থী দিল্লিতে অনাহারে ছিলেন, কারণ তাদের দেখভালের দায়িত্ব আপনারা নেননি। অভিনন্দন, শেষ পর্যন্ত আপনারাও আরেকটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হলেন।’
সমালোচনার জবাবে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমরা যত দিন প্রয়োজন, তত দিন রাস্তায় বসে আন্দোলন করতে পারি। নাচতে নাচতেও আন্দোলন করতে পারি। কফি খেতে খেতেও সংগঠন গড়ে তুলতে পারি। এটাই এই প্রজন্মের স্বাভাবিক জীবনধারা।’
তিনি আরও দাবি করেন, সরকার এবং কিছু টেলিভিশন উপস্থাপক নতুন প্রজন্মের মানসিকতা ও আন্দোলনের ধরন বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সৌরভ দাস বলেন, যে অনুষ্ঠানটির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেটি ছিল আন্দোলনে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ ও সম্মান জানানোর একটি আয়োজন। তার ভাষ্য, নাচের দৃশ্যই কেবল প্রকাশ্যে এসেছে। এর আগে আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে তাদের অভিজ্ঞতা শোনা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছিল।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির নেতৃত্বে এক মাসের বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলন চলার পর সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে সেই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘিরে প্রকাশিত উদযাপনের ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।








