Thursday 10 September, 2026

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 18:14, 9 September 2026

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা) প্রকাশিত জানুয়ারি-জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৯৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার। ফলে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তবে জুলাই মাসের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৩ কোটি ২ লাখ ডলারের, যা গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৬৫ কোটি ১০ লাখ ডলার এখানে সংখ্যাগত অসঙ্গতি রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের রপ্তানি কমার দাবি ও উল্লিখিত অঙ্ক পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

অটেক্সার হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা মোট ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী ছিল ভিয়েতনাম। দেশটি থেকে আমদানি ৯৪৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার থেকে কমে ৯৩৬ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীনের রপ্তানি ৬৯২ কোটি ৪৭ লাখ ডলার থেকে কমে ৪৫৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলারে নেমেছে।
ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ২৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। কম্বোডিয়ার রপ্তানি ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৬২ কোটি ১১ লাখ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমার পেছনে বৈশ্বিক চাহিদা কমার পাশাপাশি দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা সামগ্রিকভাবেই কম পোশাক আমদানি করেছেন। ফলে এর প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়েছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকারকদের হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। তবে সাত মাসের হিসাবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার বৈশ্বিক আমদানি কমার তুলনায় কম হলেও জুলাইয়ের প্রায় ১১ শতাংশ পতন উদ্বেগজনক।

মহিউদ্দিন রুবেলের আশঙ্কা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না হলে আগামী মাসগুলোতেও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় বাজার ধরে রাখতে নতুন কৌশল, মূল্য প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানও গ্যাস সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে ২১ জুলাই থেকে তীব্র গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রায় বন্ধ ছিল। ফলে প্রয়োজনীয় কাপড় না পাওয়ায় পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে।