Tuesday 07 July, 2026

জুলাই নিয়ে মন্তব্য: আনিস আলমগীর, পিয়া সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 14:26, 6 July 2026

জুলাই নিয়ে মন্তব্য: আনিস আলমগীর, পিয়া সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জুলাই নিয়ে মন্তব্য: আনিস আলমগীর, পিয়া সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জুলাই আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করার জেরে সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মডেল-অভিনেত্রীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে বাকস্বাধীনতা খর্ব করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে, যারা মনে করছেন ভিন্নমত পোষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি হয়রানির প্রবণতা বাড়ছে।

জিডিতে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং মডেল ও অভিনেত্রী তুষ্টি।

অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া এবং বর্তমানে জামিনে থাকা আনিস আলমগীর কারামুক্তির পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সোমা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন টকশোতে জুলাই আন্দোলনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ও আহতদের নিয়ে কটাক্ষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ঢাকা প্রেস ক্লাব এলাকায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ করেছেন এবং শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।

মডেল মারিয়া কিসপট্টার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী আন্দোলন’ হিসেবে প্রচার করার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে মডেল ও অভিনেত্রী তুষ্টির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকে ‘প্রতারণার মাস’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

জিডিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কারো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকারকর্মী ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ভিন্নমত বা সমালোচনামূলক মন্তব্যের জেরে এ ধরনের জিডি বা মামলা বাকস্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি স্বাধীন মতপ্রকাশে ভীতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পুনর্বাসন-প্রচেষ্টা এবং শহীদদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো রোধে আইনি পদক্ষেপ জরুরি।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি।