Monday 08 June, 2026

‘চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভায়াবহ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 21:07, 7 June 2026

‘চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভায়াবহ’

‘চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভায়াবহ’

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ রোববার সকালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি কসম কেটে বলছি, আমি খুব নার্ভাস হয়ে গেছি। আমি খুব দুর্বল হয়ে গেছি। আমি কীভাবে এই ফাইটটা করব? আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি, কিন্তু চিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার আয়োজনে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবেলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তিনি বলেন, “আমি সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।”

ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘টোটাল ফাইট’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান এবং কচুরিপানাযুক্ত এলাকা পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ঠিক তেমনি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়তেও জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

ডেঙ্গু বিস্তারের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহর ও গ্রামে অসংখ্য ছোট ছোট স্থানে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। গ্যারেজে গাড়ি ধোয়ার পর জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, অব্যবহৃত ক্যান, রাস্তার ছোট গর্ত কিংবা বড় ড্রেন ও খালে জমা ময়লাযুক্ত পানিতে সর্বত্র লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।

ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়নও কঠিন। চার মাস পর পর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ পড়বে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

 

News Editor : Abdullah Al Noman