Sunday 07 June, 2026

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 11:58, 6 June 2026

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি

ভারতের ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-এর (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া এই আন্দোলনকে এবার রাজপথে নিয়ে যাওয়া হবে। এ উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।

নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস এবং সিবিএসইর দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ (শনিবার) দিল্লিতে বড়সড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি)। তাদের দাবি, এই ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি চাইবেন।

বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে।

সেখানে বহু ছাত্র-যুবক অংশ নিতে পারেন বলে প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ হবে এবং সংবিধান মেনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের অনুকরণে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি গত মাসে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এক শুনানিতে সরকার-সমালোচনাকারী কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে খবর প্রকাশের পর এই সংগঠনের জন্ম হয়। তবে পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বিরোধী দল আম আদমি পার্টির (এএপি) সাবেক কর্মী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে ১৬ মে অনলাইনে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের দাবি, ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ভারতের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

‘তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, এই স্লোগান নিয়ে সংগঠনটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে।

এদিকে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন অভিজিৎ দীপকে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা অভিজিৎ দিপকে আজকের সমাবেশে নিজেই নেতৃত্ব দেবেন। তবে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলটি প্রশাসনের সব নিয়ম মেনে চলবে বলে জানিয়েছে।
দিল্লির কর্মসূচির আগে সংগঠনটি তিনজন নতুন মুখপাত্রের নামও ঘোষণা করেছে। অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি জানিয়েছে, সাংবাদিক সৌরভ দাসকে প্রধান মুখপাত্র করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং সাবেক ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক আশুতোষ রানকা সংগঠনের নীতি ও অবস্থান গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।

দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও বরুণ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা দিল্লি পুলিশের কাছে বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়েছি এবং প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছি। দেশের আইন ও বিধি মেনেই আমরা কর্মসূচি পালন করব।’

এদিকে এই সংগঠনের ডাকে আজ দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার ছাত্র-যুবকের জমায়েত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ কারণে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাজধানীর সব প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নয়া দিল্লি জেলা ও অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর, প্রধান রেলস্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (আইএসবিটি) এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সঙ্গে দিল্লার সংযোগকারী সীমান্ত এলাকায় কঠোর তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এই ছাত্র-যুব আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে যন্তর মন্তরের সমাবেশে যোগ দিতে পারেন লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক। লাদাখের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত বছর তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। এর আগেই তিনি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ওয়াংচুক লিখেছেন, ‘আমরা যদি না লড়ি, তাহলে আর কে লড়বে? এখনই যদি না করি, তাহলে কবে করব? পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ৬ জুন আমি দিল্লিতে সিজেপির সদস্যদের পাশে দাঁড়াব। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এত বড় সংকট তৈরি হলে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর উচিত নিজে থেকেই পদত্যাগ করা। কারণ এর সঙ্গে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।’ একটি ভিডিও বার্তায় তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানান। 

বিক্ষোভের ঠিক আগের দিন, শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রসঙ্গ।  

সংবাদকর্মীরা মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতে ফেরার পথে অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে কোনো ‘বহিষ্কার’ বা ‘ভিসার অপব্যবহার’ সংক্রান্ত তথ্য মার্কিন প্রশাসন ভারতকে জানিয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। সিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে দিল্লির জন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা। আন্দোলনকারীদের প্রথমে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার কাছে জড়ো হয়ে সেখান থেকে মিছিল করে মূল সমাবেশস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখতে সংগঠনটি বেশ কিছু নির্দেশনাও জারি করেছে। অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা ও একটি বই সঙ্গে রাখতে, কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করতে এবং কোনো উসকানি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রোদ থেকে সুরক্ষার জন্য পানি, সানস্ক্রিন ও টুপি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফুল দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।