Saturday 06 June, 2026

তহবিল ফাঁকা: অর্থসংকটে বেতন বন্ধ জুলাই ফাউন্ডেশনের কর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 09:23, 5 June 2026

তহবিল ফাঁকা: অর্থসংকটে বেতন বন্ধ জুলাই ফাউন্ডেশনের কর্মীদের

তহবিল ফাঁকা: অর্থসংকটে বেতন বন্ধ জুলাই ফাউন্ডেশনের কর্মীদের

অর্থসংকটের কারণে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী টানা দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তাদের মধ্যে চাকরির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট মোকাবিলা করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা। সরকারি তহবিল থেকে সর্বশেষ গত মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল। এরপর থেকে নিয়মিত অর্থায়ন না আসায় বেতন-ভাতা পরিশোধে সংকট দেখা দেয়।

জুলাই ফাউন্ডেশনের ভেতরে ‘আয়নাঘর’ বানিয়ে নির্যাতন: স্বীকারোক্তি ভুক্তভোগী জুলাইযোদ্ধার টাকা দেওয়ার নামে বারবার ঘোরানো, জুলাই ফাউন্ডেশনে তালা দিয়ে আহতদের তাণ্ডব-ভাঙচুর! জুলাই দাঙ্গায় হতাহতদের নামে শত কোটি টাকার অনুদান তুলে এখন বেতন দিতেই হিমশিম ফাউন্ডেশন ঈদুল আযহা সামনে রেখে কর্মীদের দুর্দশা লাঘবের চেষ্টা করেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল আকবর। তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে, বিশেষ করে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পাওয়া পেনশনের অর্থ থেকে, এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা সুদবিহীন ঋণ হিসেবে ফাউন্ডেশনকে প্রদান করেন। এর ফলে এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ সম্ভব হলেও মার্চ ও মে মাসের বেতন এখনো বকেয়া রয়েছে। কামাল আকবর বলেন, “এখানে যারা কাজ করছেন তাদেরও পরিবার আছে।

তারা ঈদে বাড়ি যাবে; কিন্তু বেতন পায়নি। মানবিক দিক বিবেচনায় আমার পেনশন থেকে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা ধার হিসেবে দিয়েছি। তার পরও তাদের ঈদের বোনাস দিতে পারিনি।” সরকারবিরোধী দাঙ্গায় অংশ নিয়ে আহত ও নিহতদের পরিবারের সহায়তায় ২০২৪ এর ১০ই আগস্ট যাত্রা শুরু করে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন। কথিত ৮৩৪ জন নিহতের পরিবার ও আহত ১৪ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধার সহায়তায় ৩৩৭ কোটি টাকার তহবিল নির্ধারণ করে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।

তবে, যাত্রা শুরুর সময় তারা হাতে পায় ১০০ কোটি টাকা। এরপর আর টাকা ছাড় করেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এতে বছর না ঘুরতেই আর্থিক সংকটে পড়ে ফাউন্ডেশন, সেই থেকে ধুঁকে ধুঁকে চলছে সংস্থাটি। রাজধানীর শাহবাগে ২,৪০০ বর্গফুটের অফিসের মাসিক ভাড়া ১.৫ লাখ টাকা, সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যয়, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ, যানবাহন ও আসবাব কেনা—সব মিলিয়ে ফাউন্ডেশন কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ২০২৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ইউনূস নিজ হাতে ফাউন্ডেশনকে ১০০ কোটি টাকার অনুদান দেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ কোটি এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী আরও ৫ কোটি টাকা দেন। ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া অনুদানসহ তহবিল বেড়ে দাঁড়ায় ১১৯ কোটি টাকায়। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ১১৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে—যার বড় অংশ গিয়েছে আর্থিক সহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে। বর্তমানে যা অবশিষ্ট, তা দিয়ে বেতন দেওয়ার সুযোগ নেই। কামাল আকবর বলেন, ২০২৪ সালের পর আর টাকা দেওয়া হয়নি।

১৫ বার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি, পত্র লিখেছি, সাক্ষাৎ করেছি। কিন্তু তা পাইনি। জুলাই ফাউন্ডেশনের তথ্য, আহতের মধ্যে এখনো আর্থিক সুবিধা পায়নি ৮ হাজারের বেশি যোদ্ধা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিক আবেদনেও প্রতিশ্রুত তহবিলের বাকি ২৩৭ কোটি টাকা মিলেনি এখনো। তবে এর আগে জুলাইয়ের আহতদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। টাকা দেওয়ার নাম করে বারবার ঘোরানো, টাকার ‘বখরা’ চাওয়া, টাকা নিয়ে চাপাচাপি করলে ধরে নিয়ে ফাউন্ডেশনের ভেতরে তৈরি ‘আয়নাঘর’-এ আটকে নির্যাতনের মত ঘটনাও ঘটেছে। এসবের জের ধরে ফাউন্ডেশনের কার্যালয় ভাঙচুর আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেটানোর ঘটনাও ঘটেছে গত বছরের জুলাইতে। অর্থসংকটে নিহত পরিবারের সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলেও ইউনূস সরকার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে বিপুল অপব্যয় ঘটিয়েছেন।

 

Editor: Fokhrul Islam