Friday 02 October, 2026

শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 18:06, 1 October 2026

শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ভারত

শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ভারত

এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ক্রিকেটের সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার সহজ জয় পেয়ে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

নাগোয়ার কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্ক স্টেডিয়ামে শনিবারের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল নিশ্চিত করার পথে ভারত ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে টার্নিং উইকেটে ৭ উইকেটে ১৬৯ রানের মাঝারি কিন্তু কার্যকর সংগ্রহ দাঁড় করায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই ২ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা ১০ ওভারের কম সময়ে মাত্র ৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। চরম বিশৃঙ্খল এই ইনিংসে ছিল ৩টি রানআউট।

পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে এটি শ্রীলঙ্কার সর্বনিম্ন স্কোরের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্কে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করা ৭৭ রানই ছিল তাদের সর্বনিম্ন স্কোর।

ম্যাচে টসে জিতে শ্রীলঙ্কা ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এশিয়ান গেমসে অভিষেক হওয়া ১৫ বছর বয়সী ভারতীয় ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডবের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। চলতি আইপিএলের রানসংগ্রাহকদের শীর্ষে থাকা এই নির্ভীক কিশোর ২১ বলে ৩৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৬টি চার ও ২টি বিশাল ছক্কার মার। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে তিনি বিদায় নেন।

ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন ঈশান কিষান। ৮০০ অপরাজিত থেকে দলের মূল কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করেন তিনি, যেখানে ছিল ৫টি ছক্কার মার।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা প্রথম ওভারেই বিপর্যয়ে পড়ে। ভারতের তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ তার প্রথম ওভারেই ২ উইকেট তুলে নেন। এর পর থেকে ম্যাচটি ছিল কেবল শ্রীলঙ্কা কতক্ষণ টিকতে পারে তারই সময় গণনা।

চতুর্থ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৮ রান। বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেল পান ২ উইকেট, সঙ্গে ছিল একটি অপ্রয়োজনীয় রানআউট। ধীরগতির পতন এড়াতে লঙ্কান ব্যাটার নুয়ানিদু ফার্নান্দো ওয়াশিংটন সুন্দরকে জোড়া ছক্কা হাঁকালেও দুই বল পরই ১৫ রানে রানআউট হন। শ্রীলঙ্কার একমাত্র ব্যাটার হিসেবে তিনিই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছিলেন।

৫ ওভার শেষে ৩৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। শেষ ৩ উইকেট পড়ে মাত্র ৩ বলে। যার প্রথমটি ছিল আরও একটি রানআউট এবং পরের ২ বলে শেষ ২ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন অভিষেক শর্মা।

এর আগে, ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা প্রথম সেমিফাইনালে আব্দুল সামাদের ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারায় পাকিস্তান। জয়ের জন্য পাওয়া লক্ষ্যটি ৯ বল বাকি থাকতেই টপকে যায় তারা।

বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলার পর পাকিস্তান ৪ উইকেটে ১১২ রান করে ম্যাচ জিতে নেয়। দলীয় ২১ রানে পাকিস্তানের ৪ উইকেটের ২১ রান করার পথে অবদান রাখা সাইম আইয়ুব বলেন, ‘সত্যি বলতে, কে জিতল বা কে ফাইনালে উঠল তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। ফাইনালে প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য জয়।’

পরিষ্কার নীল আকাশের নিচে শুরুতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে ইনিংসের শুরুতেই ২১ রানে ৩ উইকেট ও ষষ্ঠ ওভারে ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় পাকিস্তান। তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে দলকে সামলে নেন। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। ফলে বাংলাদেশ ১১১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানও দ্রুত কিছু উইকেট হারায়। তবে সপ্তম ওভারে ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর সামাদ ও হাসান নওয়াজ (অপরাজিত ২৭) মিলে পরিস্থিতি সামাল দেন। এই জুটি মাত্র ৩২ বলে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।

বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানের করা দশম ওভারে ম্যাচ পুরোপুরি পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান সামাদ। প্রথম বলে নওয়াজ থার্ড ম্যানে এক রান নিলে স্ট্রাইক পান সামাদ। পরপর একটি দর্শনীয় ছক্কা ও ৪টি চার হাঁকিয়ে তিনি পাকিস্তানের জয়ের সমীকরণ ১৮ বলে মাত্র ১৩ রানে নামিয়ে আনেন, যা তারা খুব সহজেই টপকে যায়।

 

News Editor : Mehedi Shaheen