Tuesday 15 September, 2026

আওয়ামী লীগেই থাকছি, পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই: সাকিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 22:52, 3 May 2026

আওয়ামী লীগেই থাকছি, পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই: সাকিব

আওয়ামী লীগেই থাকছি, পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই: সাকিব

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি ঘটলে রাজনীতিই হবে তাঁর মূল ঠিকানা এবং সেই রাজনীতি একটিমাত্র দলকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই এবং কোনোকালেই ছিল না। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও এই অবস্থা চিরস্থায়ী হবে না বলেই দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর।

সম্প্রতি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ইভেন্টে যোগ দিতে মুম্বাই সফরে আসেন ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। সেখান থেকে ফোনে দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু একই বছরের ৫ই আগস্ট সরকার পতনের সময় তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং তারপর থেকে আর দেশে ফিরতে পারেননি। দেশের বাইরে থেকেও আওয়ামী লীগের প্রতি তাঁর আনুগত্য একটুও টলেনি।

ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিচয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকবে কি না — এই প্রশ্নের জবাবে সাকিব দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন-

“সেটাই তো হওয়ার কথা, তাই না? আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই, ইচ্ছা নেই এবং কোনো কালেও ছিল না। আমি এই জিনিস কখনও করিনি। ঠিক আছে? আমি যদি একটা ছোট দলেও কোনো দিন নাম লিখিয়েছি তো ওই দলের প্রতি সবসময় অনুগত ছিলাম। পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।”

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ হলেও এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক দেশে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিকে চিরতরে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “এখন নিষিদ্ধ, তাই বলে আজীবন নিষিদ্ধ থাকবে নাকি? আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে! এটা তো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশের একটা বড় অংশকে তো দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। হ্যাঁ, জোর করে কিছুদিন সম্ভব আটকে রাখা বা যতদিন সম্ভব দমিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু এটাতে আসলে দেশের কোনো উন্নতি বা রাজনীতির ভালো আছে বলে আমার মনে হয় না।”

সাক্ষাৎকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে আসে — আওয়ামী লীগ নিজেও তো এক সময় বিরোধীদের দমন করেছে। এই বিষয়ে সাকিব সরাসরি দলের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা এড়িয়ে না গিয়ে বরং বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা বললেন।

“এই ভুলটা যদি আমরা করে থাকি, ১০-১৫-২০ বছর আগের রাজনীতির সেই সময়ে দলের ভাবনা তো আমি জানি না, কিন্তু আমরা যদি এরকম ভুল করে থাকি, সেই ভুলেরও তো তাহলে এখন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে! পরে যদি আবার অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসে বা আমরা আসি এবং পুনরাবৃত্তি করি, তাহলে এই খেলা তো চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এগুলো শেষ করতে হবে।”

কেবল সমালোচনায় থেমে না থেকে সাকিব একটি ইতিবাচক বার্তাও দিলেন — যে রাজনৈতিক দল প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে এসে সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারাই প্রকৃত অর্থে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে।

তিনি বলেন, “যে দলই এগুলো শেষ করবে, আমি বিশ্বাস করি, তারা দারুণভাবে লাভবান হবে। দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারবে। সত্যিকারের রাজনৈতিক সচেতন মানুষগুলো এমনই চায়। সবার সুযোগ থাকবে, সবাই মাঠে নেমে ন্যায্যভাবে লড়াই করবে তাদের নীতি নিয়ে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবকিছু হবে এবং লোকে যাকে পছন্দ করবে, তাকে ভোট দেবে।