চার মাসে শিশু ধর্ষণের ভয়াবহ চিত্র, উদ্বেগ বাড়ছে দেশে
দেশে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই চার মাসে ১২ বছরের কম বয়সী অন্তত ৫৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মোট ১৮০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৮১ জন ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ বছরের নিচে। শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব ঘটনা সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বছরের পর বছর এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০২৫ সালে ৭-১২ বছরের ১৪৮ জন মেয়ে শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ৬ বছরের নিচের শিশুদের ওপর নির্যাতনের সংখ্যাও ভয়াবহভাবে বেড়েছে। অথচ সমাজ এখনো ঘুমিয়ে আছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়—অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধী অচেনা কেউ নয়। প্রতিবেশী, আত্মীয়, মাদ্রাসার হুজুর বা পরিচিতজন। যাদের বিশ্বাস করে শিশুকে ছেড়ে দেয়া হয়, সেই বিশ্বাসের জায়গাতেই ঘটছে এই জঘন্য অপরাধ।
সম্প্রতি নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকই ছিল অভিযুক্ত। মিরপুরে রামিসা নামের ফুটফুটে ৭ বছরের এক কণ্যা শিশুকে ধর্ষণের পর দ্বিখণ্ডিত করে হত্যা করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান শুধু কণ্যা শিশুদের। মাদ্রাসায় ইসলাম শিক্ষার নামে শিশু পুত্রদের সংখ্যা যুক্ত হলে আর ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠবে। পরিসংখ্যান দেখে মনে হচ্ছে, কেউ যেনো সুপরিকল্পিত ভাবে নতুন প্রজন্মকে ট্রমা দিয়ে, পাশবিক ও নৃশংসভাবে মানসিকভাবে ভেঙ্গেচুরে ফেলার চেষ্টা করছে।
এই শিশুরা কী দোষ করেছিল? তারা তো শুধু খেলতে চেয়েছিল, বড় হতে চেয়েছিল, স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের সমাজ তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারহীনতা, সামাজিক লজ্জা আর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা বারবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এখনই সময় জেগে ওঠার।
News Editor : Sheikh Daiyan








