Tuesday 15 September, 2026

রাজধানী থেকে নারীসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: 10:48, 15 September 2026

রাজধানী থেকে নারীসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানী থেকে নারীসহ সাতজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর শাহআলী থানার চিলড্রেন পার্ক এলাকা থেকে মাজেদা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার পার্কের পাশে একটি টিনশেড বাসা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে মাজেদার স্বামী পলাতক।

মাজেদার মেয়ে আসমা বেগম জানান, মাসখানেক আগে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর মাজেদা এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি। 

পুলিশ জানায়, গত রোববার রাত ১২টার পর মাজেদাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মেরুল বাড্ডা এলাকা থেকে বিদ্যুৎ হোসেন (৩০) নামে অটোরিকশাচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বাড্ডা থানাধীন স্বাধীন বাংলা এলাকার একটি হাঁস-মুরগির আড়ত সংলগ্ন স্থান থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

বিদ্যুৎ নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাড্ডার আনন্দ বাজার এলাকায় থাকতেন। তাঁর স্ত্রী রূপালী বেগম জানান, আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। সংসারে সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে দেড় মাস ধরে দুজনের মধ্যে কলহ চলছিল। কলহের কারণে তিনি মেয়েকে নিয়ে মেরুল বাড্ডায় বোনের বাসায় চলে আসেন। গত শনিবার রাতে ফোনে বিদ্যুতের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। বিদ্যুৎ তাঁকে ওই হাঁস-মুরগির আড়তের পাশে খোঁজ নিতে বলে ফোন রেখে দেন। পরদিন তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। 

বাড্ডা থানার ওসি নাসিরুল আমিন বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

এ ছাড়া রাজধানীর পাঁচ স্থান থেকে নারীসহ আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

গতকাল যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনির আখড়া এলাকা থেকে অজ্ঞাত পুরুষ (৪৫), মতিঝিলের নটর ডেম কলেজের পাশের রাস্তা থেকে অজ্ঞাত পুরুষ (৫০), কামরাঙ্গীচর থানার জাউলাহাটি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ (৬৫), জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত পুরুষের (৩০) মরদেহ উদ্ধারে কথা জানিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীকে (৩০) উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর সেখানে মৃত্যু হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে এক ব্যাংক ম্যানেজারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে পেশাগত চাপ, আর্থিক সংকট ও মামলার দুশ্চিন্তা তাড়া করে ফিরছিল চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসাইনকে। শেষ পর্যন্ত গতকাল নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল তাঁর মরদেহ। মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া চিরকুটে সেই মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার কথা লিখে গেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকার ইম্পিরিয়াল আরকিট ভবনের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আবুল হোসাইনের স্ত্রী শারমিন আক্তার এ ঘটনায় হালিশহর থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পাওয়া চিরকুটে আবুল হোসাইন লিখেছেন, মোহাম্মদপুর শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঋণ দেওয়া, না দেওয়া, বদলি ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর ওপর পেশাগত চাপ বাড়ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা না পাওয়ায় আর্থিক সংকটেও ছিলেন তিনি।

এ ছাড়া ২০২১ সালের একটি চেক-সংক্রান্ত ঘটনায় লালদীঘি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তাঁর ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা হওয়ার বিষয়ও চিরকুটে উল্লেখ করেন আবুল হোসাইন। নিজেকে ওই ঘটনায় নির্দোষ দাবি করে মামলাটি নিয়ে দুই-তিন সপ্তাহ ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে চিরকুটে উল্লেখ করেন।
চিরকুটের শেষাংশে পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের দেখভালের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
হালিশহর থানার উপপরিদর্শক মোশাররফ হোসেন বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিরকুটের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।