Tuesday 21 July, 2026

এলপিজির দাম ৫৫ টাকা কমালো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: 11:30, 3 June 2026

এলপিজির দাম ৫৫ টাকা কমালো সরকার

এলপিজির দাম ৫৫ টাকা কমালো সরকার

টানা মূল্যবৃদ্ধির ধারা থেকে কিছুটা সরে এসে জুন মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল ২রা জুন, মঙ্গলবার বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করে। কমিশন জানিয়েছে, নতুন দাম মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর মে মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) বিবেচনায় নিয়ে জুন মাসের এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। মূল্যহ্রাসের ফলে জনগণ উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিইআরসির কর্মকর্তারা।

নতুন নির্ধারিত দরে বেসরকারি খাতে এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের ভোক্তা মূল্য লিটারপ্রতি ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে মে মাসে এলপিজির খুচরা মূল্য ছিল প্রতি কেজি ১৬১ টাকা ৭১ পয়সা এবং অটোগ্যাসের মূল্য ছিল লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫২ পয়সা। সে হিসেবে জুন মাসে এলপিজি ও অটোগ্যাস—উভয় ক্ষেত্রেই দাম কিছুটা কমেছে।

বিইআরসির নতুন ঘোষণায় বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দরে ৫.৫ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ৮৬৪ টাকা, ১২.৫ কেজির ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, ১৫ কেজির ২ হাজার ৩৫৬ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৫১৩ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৮২৭ টাকা, ২০ কেজির ৩ হাজার ১৪১ টাকা, ২২ কেজির ৩ হাজার ৪৫৫ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৯২৭ টাকা, ৩০ কেজির ৪ হাজার ৭১২ টাকা, ৩৩ কেজির ৫ হাজার ১৮৩ টাকা, ৩৫ কেজির ৫ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭ হাজার ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সরকারি খাতের এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, ২৩শে ফেব্রুয়ারির আদেশ অনুযায়ী সরকারি এলপিজির ১২.৫ কেজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাই বহাল থাকবে।

যদিও জুন মাসে দাম কিছুটা কমানো হয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোক্তাদের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি কমেনি।

গত মে মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তার আগে ১৯শে এপ্রিল বিইআরসি এক দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করে।

আরও আগে, ২রা এপ্রিল মাসিক মূল্য সমন্বয়ের সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল। একই সময়ে অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বেড়ে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সায় পৌঁছায়।

এর ফলে এপ্রিল মাসের শুরু থেকে ১৯শে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকায় পৌঁছায়, যা ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।

বর্তমানে জুন মাসের সমন্বয়ে ৫৫ টাকা কমানো হলেও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এখনও ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫৪৪ টাকা বেশি রয়েছে। ফলে মূল্য কমার ঘোষণা এলেও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এলপিজি এখনও তুলনামূলক ব্যয়বহুল অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বাজারে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তারা প্রায়ই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন।

এই প্রেক্ষাপটে বিইআরসি মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে পুনরায় সতর্ক করে জানিয়েছে, এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ কেন্দ্র, পরিবেশক (ডিস্ট্রিবিউটর), খুচরা বিক্রেতা (রিটেইলার) কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের বেশি দামে বোতলজাত এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না।

 

News Editor : Sheikh Daiyan