
ইতিহাদকে বিদায় জানালেন ডি ব্রুইনা
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন রাতে শেষবারের মতো মাঠে নামলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। মাঠে খেলোয়াড়, গ্যালারিতে দর্শকদের পাশাপাশি চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না পেপ গার্দিওলাও। ম্যানচেস্টার সিটি বস গার্দিওলা বললেন—‘এটি একটি দুঃখের দিন’।
৩৩ বছর বয়সী এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডার দীর্ঘ এক দশক সিটির মাঝমাঠ শাসন করে গেছেন।
সিটির হয়ে জিতেছেন ১৬টি ট্রফি, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। এর প্রতিদানও পাচ্ছেন ব্রুইনা। তার নামে তৈরি হচ্ছে একটি সড়ক, একটি মোজাইক, এবং খুব শিগগিরই স্টেডিয়ামের বাইরে নির্মিত হবে তার একটি ভাস্কর্য। বৃহস্পতিবার রাতে বোর্নমাউথের বিপক্ষে সিটির ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হওয়া ম্যাচটি ছিল ডি ব্রুইনার শেষ হোম লিগ ম্যাচ।
বিদায়ী ম্যাচে রূপকথার মতো কিছু না হলেও। প্রথমার্ধে একেবারে গোলমুখে বল পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে মাতেও কোভাচিচের লাল কার্ডের কারণে তাকে তুলে নেওয়া হয়।
ম্যাচ শেষে ডি ব্রুইনা বলেন, ‘আমি সৃজনশীলতা, আবেগ নিয়ে খেলতে চেয়েছি।
আমি ফুটবল উপভোগ করতে চেয়েছি, এবং আশা করি সবাই উপভোগ করেছে। এই ক্লাবের ভেতরে-বাইরে সবাই আমাকে আমার সেরা রূপে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।’
ব্রুইনার বিদায়ে চোখের পানি ফেলেছেন কঠিন হৃদয়ের গার্দিওলাও।
গার্দিওলা বলেন, ‘ডি ব্রুইনার অর্জন অনেক, কিন্তু যখন এত সম্মান আর ভালোবাসা নিয়ে কেউ ১০ বছর পর ক্লাব ছাড়ে তা বিশেষ কিছু। আমি নিশ্চিত, ক্লাবে যখন এসেছিলেন তখন তিনি সিটির ভক্ত ছিল না, কিন্তু এখন চিরকাল একজন সিটি ভক্ত হয়ে থাকবেন।
’
ম্যাচ শেষে স্ত্রী ও সন্তানসহ ব্রুইনা পেয়েছেন গার্ড অব অনার। বড় পর্দায় ভেসে উঠছিল আগুয়েরো, কম্পানি, স্টার্লিং, সাবালেতাদের ভিডিও বার্তা।
মাঠজুড়ে সমর্থকদের চিৎকার করে জানাচ্ছিল—‘কেভিন ডি ব্রুইনা আমরা চাই তুমি থেকে যাও, কেভিন ডি ব্রুইনা আমরা চাই তুমি থেকে যাও।’ কিন্তু বিদায় যে অনিবার্য, তা বুঝিয়ে দেন নিজেই।